মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর: বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সংসদীয় কার্যপ্রণালী ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পাথারকান্দি কলেজে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিকশিত ভারত ও যুব সংসদ’ অধিবেশন। কলেজের ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিমের (NSS) উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন কলেজের প্রায় ৩০ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সংসদীয় পরিবেশের আদলে বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়ে অংশ নেন। অধিবেশনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিষয়ক আলোচনা। এতে নির্বাচনী ব্যয় হ্রাস, প্রশাসনিক কাজে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বারবার নির্বাচনের প্রভাব কমানোর সম্ভাবনার পাশাপাশি সাংবিধানিক সংশোধন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

যুব সংসদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জাতীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল আলোচনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, আত্মবিশ্বাস, যুক্তিবোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব আধিকারিক গৌরব পান্তি, প্রাক্তন জেডপি সদস্য শান্তিলাল সিনহা, রামকৃষ্ণনগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক মনোজিৎ পুরকায়স্থ, আরএস কলেজের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় শীল, স্বামী বিবেকানন্দ কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা সঞ্জুগিতা পাসি এবং পাথারকান্দি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমাম উদ্দিন আনসারি ও ড. সালিকুজ্জামান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, ড. সামসুদ্দিন বড়ভূইয়া ও ড. জয়নুল হক-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ড. এম. নিঙ্গাম্বা সিংহ।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পর্বে বক্তব্য, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যুক্তি উপস্থাপন ও সংসদীয় আচরণবিধির ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। শেষে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে ট্রফি ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে শংসাপত্র প্রদান করা হয়। অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী গামোছা দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
যুব সংসদের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা, জাতীয় বিষয়ে সচেতনতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মানসিকতা গড়ে তোলার বার্তা উঠে আসে।



