
দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ অক্টোবর : শিউলির সুবাস, ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে কাছাড় জেলার ধলাই কেন্দ্র। শনিবার মহাসপ্তমী উপলক্ষে ধলাইয়ের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় রীতিনীতি ও পরম্পরা মেনে অনুষ্ঠিত হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। সকাল থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
এবারের দুর্গোৎসবে ধলাইয়ের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে পালংঘাট ন্যাশনাল ক্লাবের পূজামণ্ডপ। সোনালি সাজসজ্জায় সজ্জিত এই মণ্ডপ দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। তবে মণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ অভিনব কাঁচের তৈরি দুর্গাপ্রতিমা। আয়োজকদের দাবি, কাছাড় জেলার ধলাই বিধানসভা সমষ্টিতে এই প্রথম কাঁচের তৈরি দুর্গাপ্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। অভিনব শিল্পকর্ম ও নান্দনিক সাজসজ্জার এই মেলবন্ধন দেখতে পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

মহাসপ্তমীর সকালে ধর্মীয় বিধি মেনে নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। এরপর পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীর আরাধনা করা হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে দেবী দুর্গার দর্শন করেন এবং পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে পরিবার-পরিজনসহ সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে বহু মানুষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন।

ধলাইয়ের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। কোথাও চলছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, কোথাও আবার দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে পূজামণ্ডপ। কয়েকটি পূজা কমিটির পক্ষ থেকে পূজার আচার-অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।
অন্যদিকে, আমড়াঘাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় উপাসনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।



