বরাকে হাইকোর্ট বেঞ্চ : মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির বৈঠকের পর ইতিবাচক বার্তা, জানালো ডিমান্ড কমিটি

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২১ জুলাই :
বরাক উপত্যকায় গৌহাটি হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতে নতুন করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির কাছাড় জেলা শাখা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং গৌহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর দাবি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কমিটির সভাপতি ধ্রুবকুমার সাহা জানান, গত ১৬ জুলাই প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রধান বিচারপতির অনুমোদন মিললেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে আলোচনা হয় এবং একটি ভিশন ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি উদ্যোগের প্রশংসা করে বিষয়টি প্রশাসনিক কমিটির সামনে উপস্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

কমিটির মূল দাবি বরাক উপত্যকায় গৌহাটি হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন। তবে স্থায়ী বেঞ্চ চালু হতে সময় লাগলে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি সার্কিট বেঞ্চ চালুর প্রস্তাবকেও তারা স্বাগত জানাবে বলে জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কমিটি গঠনের পর থেকেই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ১২ জানুয়ারি প্রথম স্মারকলিপি প্রদান করা হয় এবং ইতিমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া বরাক উপত্যকার ১৫০টিরও বেশি সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও বিভিন্ন সংগঠন এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে কমিটির দাবি।
কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ধর্মানন্দ দেব জানান, প্রস্তাবিত হাইকোর্ট বেঞ্চের জন্য অন্তত ৪০ একর জমি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা দরকার হবে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথকে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে কমিটির সহ-সভাপতি শান্তনু নায়েক, আইনজীবী দেবমিতা চক্রবর্তী, তুহিনা শর্মা, জ্যোতির্ময় নাথ এবং প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বিভাস দেব উপস্থিত ছিলেন। কমিটির নেতাদের মতে, সাম্প্রতিক বৈঠক দীর্ঘদিনের এই দাবিকে বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *