১৯৮৬ সালের ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণসভা, ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার আহ্বান

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২১ জুলাই : ১৯৮৬ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহিদ দিবেন্দু দাস (যীশু) ও জগন্ময় দেব (জগন)-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক স্মরণসভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি (সিআরপিসি) এবং হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন। বড় মসজিদ বাণিজ্যিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শিয়াব উদ্দিন আহমেদ, সিআরপিসির সাধারণ সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থ, প্রাক্তন অধ্যাপক অজয় রায়, মধুসূদন কর, মিলন লস্কর, বদর উদ্দিন বড়ভূইয়া, মিনারা বেগম, আজিজুর রহমান চৌধুরী, আইনজীবী আলি রেজা ওসমানি, শাহরিয়ার খান এবং কামাল উদ্দিন মজুমদারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলে ভাষা শহিদ দিবেন্দু দাস ও জগন্ময় দেবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বক্তারা ভাষার জন্য আত্মবলিদানকারী শহিদদের ত্যাগ ও সংগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য বলেন, দিবেন্দু দাস ও জগন্ময় দেবের আত্মত্যাগ ১৯৬১ সালের ভাষা শহিদদের আত্মবলিদানের ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংগ্রামী চেতনা অটুট রাখার আহ্বান জানান এবং আত্মবিস্মৃতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
সিআরপিসির সাধারণ সম্পাদক সাধন পুরকায়স্থ বলেন, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও বাঙালিত্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি। ভাষাতত্ত্বের বিশেষজ্ঞ হওয়ার চেয়ে ভাষার প্রতি আন্তরিক অনুভূতি ও সচেতনতা গড়ে তোলাই বেশি প্রয়োজন।
সভা শেষে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিলচর বার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় আইনজীবী আলি রেজা ওসমানিকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *