বরাক তরঙ্গ, ১৭ মে : কৃত্রিম বন্যা ও শিলচরের সাম্প্রতিক দুরবস্থার জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পুরসভার নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। একই সঙ্গে অবিলম্বে শিলচর পুরনিগম নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। রবিবার এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই মাত্র দু’দিনের বৃষ্টিতে বরাক উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্পষ্ট যে প্রশাসন নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই কৃত্রিম বন্যার ফলে শিলচরের লিঙ্ক রোড, ন্যাশনাল হাইওয়ে সংলগ্ন এলাকা, বিলপার রাধামাধব রোড, শিলংপট্টি, বিবেকানন্দ রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শ্রীভূমি শহরে, যেখানে বহু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান জল জমে যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে হাইলাকান্দি জেলা ও উদারবন্দের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও। জলবন্দি মানুষকে উদ্ধারে নামাতে হয়েছে এসডিআরএফ কর্মীদের।
জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আগামী বর্ষাকালে উপত্যকার পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। বিডিএফের দাবি, শহরের নিকাশি খাল ও নালাগুলির সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এটাই বর্তমান সমস্যার মূল কারণ। পাশাপাশি, নাগরিকদের উপর দোষ চাপিয়ে প্রশাসন নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও এখনও পর্যন্ত বরাকের তিন প্রধান শহরে পরিকল্পিত বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণের কোনও সুস্পষ্ট ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
বিডিএফ জানায়, বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ, অস্থায়ী ও স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন, বর্জ্যকে কম্পোস্ট সারে রূপান্তরিত করা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বহু সামাজিক সংগঠন সরব হলেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। সংগঠনের মতে, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু থাকলে নালা ও খালে আবর্জনা ফেলার প্রবণতাও অনেকাংশে কমত। প্রেস বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, শিলচর পুরসভা ইতিমধ্যেই পুরনিগমে উন্নীত হলেও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। রাঙির খাল, লঙ্গাই খাল, শিঙ্গির খাল-সহ বিভিন্ন নিকাশি খালের যথাযথ সংস্কার করা হলে শহরবাসীকে এমন দুর্ভোগে পড়তে হত না বলেও দাবি করেছে বিডিএফ।
সংগঠনের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারণেই সামাজিক সংগঠনগুলিকে নিকাশি ব্যবস্থার তদারকিতে নামতে হচ্ছে। একই অবস্থা করিমগঞ্জ শহরের নটিখাল-সহ বিভিন্ন নালার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে দাবি করা হয়েছে। বিডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময় খুব কম। তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বরাক উপত্যকার নিকাশি খাল ও নালাগুলির সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে শিলচর পুরনিগম নির্বাচন না হওয়ায় পৌর পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ তোলে সংগঠনটি। নিকাশি সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শহরে জল ছিটানোর মতো বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিডিএফ। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হলেও সেগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন সরকার গঠনে বরাক উপত্যকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে ভোট দিয়েছেন, জলযন্ত্রণায় ভোগার জন্য নয়। তাই দলমত নির্বিশেষে বরাকের নিকাশি ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।



