শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ আগস্ট : ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে অসমে নতুন আটটি সমজেলা গঠনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ঘোষিত নতুন সমজেলা গুলির মধ্যে কাছাড় জেলার কাটিগড়া ও বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় দুই এলাকায় প্রশাসনিক পরিসর ও সরকারি পরিষেবা আরও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে বলে আশা তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া এবং সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করাই নতুন সমজেলা গঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এই ঘোষণায় কাটিগড়া ও বড়খলা এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই দেখা দিয়েছে আনন্দের আবহ।

এদিকে ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপি কাটিগড়ার চার মণ্ডলের নেতা-কর্মীরা। কাটিগড়া, বদরপুর-পাঁচগ্রাম, কালাইন ও পশ্চিম কাটিগড়া মণ্ডলের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় আনন্দ উদযাপন।
শনিবার সন্ধ্যায় কাটিগড়া মণ্ডল কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় মণ্ডল সভাপতি বিশালাক্ষ দেবের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা আতশবাজি পুড়িয়ে এবং একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। এসময় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের নামে জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
একইভাবে রাতে বদরপুর-পাঁচগ্রাম মণ্ডল কার্যালয়ের সামনেও দেখা যায় উৎসবের আমেজ। মণ্ডল সভাপতি মিঠুন শুক্লবৈদ্যের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা আতশবাজি পুড়িয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে কাটিগড়াকে সমজেলা হিসেবে ঘোষণার আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থও।

বিজেপি নেতাকর্মীদের বক্তব্য, কাটিগড়াকে সমজেলায় উন্নীত করার ঘোষণা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে পূরণ করেছে। প্রশাসনিক কাজের জন্য দূরবর্তী স্থানে ছুটতে হবে না, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত পৌঁছাবে – এমনটাই আশা তাঁদের।

এই ঘোষণার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজেপির চার মণ্ডলের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি কাটিগড়াকে সমজেলায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের ভূমিকা ও প্রচেষ্টাকেও এর কৃতিত্ব দেন তাঁরা।
স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের মধ্যেই সমজেলা ঘোষণাকে ঘিরে কাটিগড়ায় বিজেপি শিবিরের এই উচ্ছ্বাসে কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয়। প্রশাসনিকভাবে নতুন এই মর্যাদা আগামী দিনে কাটিগড়া ও বড়খলার মানুষের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।



