১৪ মে : ২০২৬ সালের ভারতীয় হজযাত্রীদের জন্য কেন্দ্রের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় হজ কমিটি যৌথভাবে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে চালু করেছিল “হজ সুবিধা” স্মার্ট ওয়াচ বা স্মার্ট রিস্টব্যান্ড। সরকারের দাবি ছিল, এই প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের হাজিরা এই স্মার্ট ওয়াচের মাধ্যমে একাধিক আধুনিক সুবিধা পাবেন। সেই অনুযায়ী হজের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে স্মার্ট ওয়াচ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়।
দেশের বিভিন্ন এমবারকেশন পয়েন্টে বড় বড় ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ধরে ডিভাইসটির সম্ভাব্য সুবিধাগুলি তুলে ধরা হয়। হাজিদের এটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ফলে বহু হজযাত্রীর মধ্যে প্রযুক্তিটি নিয়ে আগ্রহ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।
সরকারি প্রচার অনুযায়ী স্মার্ট ওয়াচে জিপিএস লোকেশন ট্র্যাকিং, এসওএস বা জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা, হার্টবিট ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, নামাজের সময়সূচি ও কিবলা নির্দেশনা, পদক্ষেপ গণনা, হজ সুবিধা অ্যাপের সঙ্গে সংযোগ এবং সৌদি আরবে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ই-সিম কানেক্টিভিটির মতো একাধিক সুবিধা থাকার কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তবে বহু হজযাত্রীর অভিযোগ, প্রচারিত অধিকাংশ পরিষেবাই কাজ করছে না। অনেক হাজির দাবি, সম্পূর্ণ চার্জ দেওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্মার্ট ওয়াচের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সময় দেখাও সম্ভব হচ্ছে না।
প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হজযাত্রীরা শুরুতেই ডিভাইসটির সীমিত কার্যক্ষমতা বুঝতে পারেন। অন্যদিকে প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞরাও কয়েক দিনের মধ্যেই উপলব্ধি করেন যে প্রচার এবং বাস্তব ব্যবহারের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। অনেক হাজির বক্তব্য, যে উদ্দেশ্যে লক্ষাধিক হজযাত্রীর হাতে স্মার্ট ওয়াচ তুলে দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। কেউ এটি শুধুমাত্র হাতের অলংকার হিসেবে ব্যবহার করছেন, আবার অনেকে সম্পূর্ণভাবে খুলে ব্যাগে রেখে দিয়েছেন।
হজযাত্রীদের একাংশের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে চালু করা এই প্রকল্প বাস্তবে কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।



