বরাক তরঙ্গ, ৭ নভেম্বর : অবশেষে সাসপেন্ড করা হল শিলচর জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্যকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলের অন্তর্বর্তীকালীন জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অরুণ দত্ত মজুমদার। শনিবার সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি জানান, দলের সভাপতি সংশ্লিষ্ট দুটি প্রস্তাবেই অনুমোদন দিয়েছেন।
শিলচর জেলা কংগ্রেসের জমি বিক্রির জন্য কাছাড়ের জেলাশাসকের কার্যালয়ে সজল আচার্যের নামে এনওসি চেয়ে আবেদন জমা পড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের অন্দরে বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা কংগ্রেসের একাংশ কর্মকর্তা প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট জমা দেন। এরপর প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সজল আচার্যকে শো-কজ করার পাশাপাশি তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতাও খর্ব করা হয়। পরবর্তী সময়ে শো-কজের জবাব দিলেও তা প্রদেশ নেতৃত্বের কাছে সন্তোষজনক হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির কাছে পাঠায় প্রদেশ কংগ্রেস।

সজল আচার্যের সাসপেনশন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিশেষ সংশয় না থাকলেও, তাঁর জায়গায় কে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে চলছিল বিস্তর জল্পনা। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছিল প্রাক্তন দুই জেলা সভাপতি অভিজিৎ পাল ও তমাল কান্তি বণিকের পাশাপাশি অতনু ভট্টাচার্য এবং পাপন দেবের নামও।
দলীয় সূত্রের খবর, এই চার নেতার মধ্যে তমাল কান্তি বণিক, অতনু ভট্টাচার্য ও পাপন দেব বর্তমানে তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে অভিজিৎ পাল রয়েছেন দলের ভিন্ন শিবিরে। তবে তাঁদের প্রত্যেকেই যে জেলা সভাপতির দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন, এমনটা নয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীতে অবস্থানের কারণে তাঁদের মধ্যে কাউকে সভাপতি করা হলে শিলচর জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও বাড়তে পারত। সেই আশঙ্কা থেকেই প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব বর্ষীয়ান নেতা অরুণ দত্ত মজুমদারের নাম প্রস্তাব করে।

যদিও অরুণ দত্ত মজুমদারকে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি করার পরও দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের। তবে একাংশের আশা, তাঁর নিয়োগে অন্তত কিছুটা হলেও কোন্দলের মাত্রা কমবে এবং সংগঠনে স্থিতিশীলতা ফিরবে।
এদিকে সাসপেনশনের বিষয়ে সজল আচার্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, বিষয়টিকে দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন তিনি।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। সেই প্রক্রিয়ায় নতুন করে জেলা সভাপতিও নির্বাচিত হতে পারেন। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে অরুণ দত্ত মজুমদারই শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবেন, নাকি তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা সময়ই বলবে।
তবে তার আগে শিলচর জেলা কংগ্রেসে সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দেওয়াই অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি অরুণ দত্ত মজুমদার ও প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।



