বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার শিলচরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এআইডিএসও)। দেশব্যাপী পালিত ‘ছাত্র সংকল্প দিবস’-এর অংশ হিসেবে কাছাড় জেলাতেও এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ফলে দেশের অসংখ্য মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার শিকার না হন, সেই দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ৩টায় শিলচরের আবর্ত ভবন রোডে এআইডিএসও-র কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধ, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) বাতিল এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এআইডিএসও-র কাছাড় জেলা সভাপতি ও রাজ্য কাউন্সিলের সহ-সভাপতি স্বাগতা ভট্টাচার্য বলেন, “নিট-ইউজি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে যে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে এসেছে, তা দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরীক্ষা বাতিল বা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক মানসিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করছে।”
তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের সমালোচনা করে বলেন, “শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করার ফলেই আজ প্রশ্নপত্র বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে। মেধার পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই প্রবণতা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।” সভা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি সমাধান, দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এআইডিএসও-র কাছাড় জেলা সহ-সভাপতি সাবির আহমেদ ও আপন লাল দাস, জেলা সম্পাদক স্বপন চৌধুরীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।



