নেতাজিকে ‘অপমান’-এর খেসারত! অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ কাড়ল রাজ্য সরকার

Spread the news

১৩ আগস্ট : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে লাগাতার বিতর্কিত মন্তব্যের জের। রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের মঞ্চে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নগেন রায়কে এই সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি নগেন যেভাবে নেতাজি সম্পর্কে একের পর এক কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করল রাজ্যের বিজেপি সরকার।

সরকারি খাতায় তিনি গগেন্দ্র রায়ের ছেলে নগেন্দ্র রায়। রাজ্যসভায় কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ। বাড়ি অসমের চিরাংয়ের সতীপুরে। অথচ প্রকাশ্য সভায় নিজেকে পরিচয় দেন কোচবিহারের মহারাজা অনন্ত রায় হিসাবে। তাঁর অনুগামীরা আবার তাঁকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসাবে প্রচার করেন। তাঁদের একাংশ লেখেন, তিনি নগেন্দ্র দেববর্মা। অন্যদিকে দিনহাটার গোসানিমারি এলাকায় নগেন্দ্র অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তি। স্থানীয়দের কাছে তিনি উপেন বর্মন হিসাবেই পরিচিত। গ্রামের লোকেরা তাঁকে ডাকেন উপিন ঢোঁরা নামে।

তাঁরা জানিয়েছেন, অসম নয়, নগেন্দ্র আসলে গোসানিমারিরই বাসিন্দা। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। কোনটা তাঁর আসল পরিচয়, কোনটা নকল তা বোঝা বেশ শক্ত। কোচবিহার শহরের অদূরে বড়গিলা এলাকায় বিশাল ‘রাজপ্রাসাদ’ বানিয়ে রাজা সেজে বসা নগেন্দ্র এখন এক রহস্যময় চরিত্র। তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একের পর এক বিতর্ক।

সরকারি নথি অনুসারে, ১৯৪৯ সালের ২৮ অগাস্ট কোচবিহারের ভারতভুক্তি চুক্তি হয় এবং একই বছর ১২ সেপ্টেম্বর রাজ্য হিসাবে কোচবিহার ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের জেলা হিসাবে পথ চলা শুরু হয় কোচবিহারের। ভারতভুক্তির সময় কোচবিহারের মহারাজা ছিলেন জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুর। সেই অনুসারে তিনিই কোচবিহারের শেষ রাজা। তবে রাজপরিবারের ইতিহাস বলছে, জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণের পর রাজবংশের প্রথা মেনে শেষবার রাজা হিসাবে রাজ্যাভিষেক হয়েছিল বীরাজেন্দ্রনারায়ণের। সেই হিসাবে অনেকেই বীরাজেন্দ্রনারায়ণকেই কোচবিহারের শেষ রাজা হিসাবে স্বীকৃতি দেন।

রাজার শাসনের অবসান হলে সরকারিভাবে কোচবিহার রাজবংশের সদস্যদের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল। সরকার স্বীকৃত সেই ব্যক্তিরাই রাজপরিবারের সদস্য বা জ্ঞাতি। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছেন সেই সদস্যরা। তাঁরা একসঙ্গে তৈরি করেছেন দ্য কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি সাকসেসর্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। সরকারি তালিকা বা ট্রাস্টের কোথাও নগেন্দ্রর নামগন্ধও নেই। তাহলে কোন যুক্তিতে তিনি নিজেকে রাজা বলছেন সেই প্রশ্ন উঠছে সব মহলেই।

কয়েকদিন আগে শিলিগুড়িতে সাংবাদিকরা নগেনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই রে রে করে ওঠেন তাঁর অনুগামীরা। পরে সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে নগেন বারবার দাবি করেন, তিনিই মহারাজা। তবে কীভাবে রাজা হলেন তার ব্যাখ্যা অবশ্য দেননি। ব্যাখ্যা জানার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।

নগেন্দ্র নিজেকে কোচবিহারের রাজা হিসাবে পরিচয় দেওয়ায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ রয়্যাল ফ্যামিলি সাকসেসর্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্যরা। সংগঠনের মুখপাত্র কুমার মৃদুলনারায়ণের কথা, ‘কোচবিহার রাজপরিবারের সঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায়ের কোনওরকম সম্পর্ক নেই। তিনি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে যেভাবে মিথ্যা প্রচার করছেন তা যথেষ্ট আপত্তিকর ও বেআইনি। এর প্রতিবাদ করে কড়া পদক্ষেপ করার জন্য আগেই আমরা প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ বিভিন্ন মহলে চিঠি দিয়েছি। আবারও আমরা চিঠি পাঠাব। এই মিথ্যাচার দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *