জনতা কলেজে অধ্যাপক শিবাশিস বিশ্বাসের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৭ অক্টোবর : কাবুগঞ্জের জনতা কলেজের ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে মঙ্গলবার কলেজের কনফারেন্স হলে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিফু ক্যাম্পাসের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক শিবাশিস বিশ্বাসের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনতা কলেজের অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস পাল। তিনি আমন্ত্রিত অতিথি অধ্যাপক শিবাশিস বিশ্বাসকে সংবর্ধনা জানান। এরপর উত্তর-পূর্ব ভারত, বিশেষ করে মিজোরাম নিয়ে আলোচনার সূচনা করেন তিনি। নিজের মিজোরাম-অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অধ্যাপক বিশ্বাসের সঙ্গে অতীতে হওয়া কয়েকটি সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন অধ্যক্ষ।

উত্তর-পূর্ব ভারতে অধ্যাপক শিবাশিস বিশ্বাসের কর্মজীবন দীর্ঘ কয়েক দশকের। করিমগঞ্জ কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। পরবর্তীতে মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিফু ক্যাম্পাসের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে উত্তর-পূর্ব ভারতের সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পরিচয় গড়ে উঠেছে।

নিজের বক্তব্যে অধ্যাপক বিশ্বাস মিজোরামসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁর অভিজ্ঞতার বিভিন্ন দিক স্থান পেয়েছে তাঁর গল্পসংকলন “Torn Pages from my Northeast Diary: A Memoir”-এ। পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হিসেবে মিজো সমাজে প্রথমদিকে তিনি একজন বহিরাগত ছিলেন। কিন্তু ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব কমে আসে এবং তিনি মিজো সমাজের মানুষের কাছে আপনজন হয়ে ওঠেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক বিশ্বাস জানান, একসময় মিজো সমাজের মানুষ তাঁকে পরিবারের সদস্যের মতো গ্রহণ করেন। এমনকি একটি পরিবারের পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠানে তাঁকে কন্যার আনুষ্ঠানিক পিতার ভূমিকাতেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

অধ্যাপক বিশ্বাসের জীবন-অভিজ্ঞতায় ভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতির বার্তা উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পারস্পরিক দূরত্ব ও ভিন্নতাকে অতিক্রম করে ভালোবাসা, ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে সমাজে নানা কারণে বিভাজনের প্রবণতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক বিশ্বাসের অভিজ্ঞতা সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরে। তাঁর অভিজ্ঞতার কাহিনিগুলি ছাত্রছাত্রীদের সামনে উত্তর-পূর্ব ভারতের সমাজ ও সংস্কৃতিকে অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে জানার সুযোগ করে দেয়।

ছাত্রছাত্রীদের বৃহত্তর জগতের সঙ্গে পরিচিত করা এবং অধ্যাপক শিবাশিস বিশ্বাসের মতো জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ উদ্যোগ নেন ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্নি দেব মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *