সোনালি আচার্যের প্রথম গ্রন্থ ‘বিয়ন্ড দ্য রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১২ জুলাই : হাইলাকান্দির কৃতী কন্যা তথা বর্তমানে হায়দ্রাবাদ নিবাসী বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী, সমাজসেবী এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব সোনালি আচার্য তাঁর জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন। নৃত্যশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর এবার তিনি আত্মপ্রকাশ করলেন লেখক, জনবক্তা, প্রশিক্ষক ও লাইফ কোচ হিসেবে।

সম্প্রতি ড. ওয়াইএসআর-এর তত্ত্বাবধানে নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং (এনএলপি) এবং সুপার কোচ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন সোনালি আচার্য। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ গত ৩ থেকে ৫ জুলাই আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ সেমিনারে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘বিয়ন্ড দ্য রিপোর্ট কার্ড’।

বইটি মূলত ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও কার্যকর যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এতে লেখিকা তুলে ধরেছেন, একটি শিশুর প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল পরীক্ষার নম্বরের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রতিটি শিশুর নিজস্ব প্রতিভা, অনুভূতি, মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নকে সমান গুরুত্ব দেওয়াই একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

গ্রন্থটির মাধ্যমে সোনালি আচার্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সন্তানদের ওপর নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন চাপিয়ে না দিয়ে তাদের স্বাভাবিক প্রতিভা ও আগ্রহকে বিকশিত হতে সাহায্য করতে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের নিয়ম, নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং ইতিবাচক যোগাযোগই একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চা, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সোনালি আচার্য এই নতুন অধ্যায়ের মাধ্যমে শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব বিকাশ, মানসিক সুস্থতা এবং ইতিবাচক জীবনদর্শন নিয়ে সমাজে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একজন জনবক্তা, প্রশিক্ষক ও পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি আগামী দিনে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, উদ্বুদ্ধকরণমূলক সেমিনার এবং কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।

নিজের এই নতুন পথচলায় সোনালি আচার্য বরাক উপত্যকাসহ দেশ-বিদেশের সকল শুভানুধ্যায়ীর আশীর্বাদ ও শুভকামনা কামনা করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে হাইলাকান্দিসহ সমগ্র বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর আগামী পথচলার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *