হজের খুতবায় ঐক্য, তাকওয়া ও শৃঙ্খলার আহ্বান জানালেন শায়খ আল-হুযাইফি

Spread the news

২৭ মে : বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় আরাফাহর ময়দানে সমবেত লাখো হাজির উদ্দেশে ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করা হয়েছে। এবারের হজের খুতবা প্রদান করেছেন বিশ্বখ্যাত প্রবীণ আলেম ও মসজিদে নববির সম্মানিত খতিব শায়খ আলি আল হুজাইফি। খুতবার শুরুতে তিনি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করেন। এরপর তিনি উপস্থিত হাজি সাহেবরাসহ বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানকে তাকওয়া অবলম্বন ও তাওহিদের ওপর অবিচল থাকার আহ্বান জানান।

শায়খ আলি আল হুজাইফি মানবজাতিকে সম্বোধন করে বলেন, হে মানবসকল! আপনারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতি অবলম্বন করুন। কারণ একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমেই পরকালে আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব। তিনি সূরা হজের শুরুর আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কিয়ামতের ভূকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। সেদিন স্তন্যদাত্রী মা তার সন্তানকে ভুলে যাবে এবং গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হবে। আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠিন, তাই দুনিয়ার জীবনেই নেক আমল এবং সব ধরনের পাপাচার বর্জনের মাধ্যমে আমাদের সেই কঠিন দিবসের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

খুতবায় জোর দিয়ে বলা হয়, পরকালের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো ‘তাওহিদ’ বা আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং তিনি ছাড়া অন্য কাউকে না ডাকা। আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করা যা মানুষের ক্ষতি বা উপকার কিছুই করতে পারে না, তা চরম পথভ্রষ্টতা। যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক (শিরক) করে, তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ঈমানদারদের আসল স্লোগান হলো তাওহিদ এবং ইসলামের মূল রোকনগুলোর (নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ) যথাযথ বাস্তবায়ন।

উপস্থিত মুসলমানদের উদ্দেশে খতিব বলেন, আল্লাহর আনুগত্য এবং কষ্টদায়ক তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ ধৈর্যশীলদের পুরস্কার বিনা হিসাবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ও কোরবানির পশুর জন্য তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

খুতবায় আল্লাহর খলিল হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আমল ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে হজের বিভিন্ন বিধান ও নিয়মাবলি আলোচনা করা হয়। শায়খ হুজাইফি বলেন, আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার অন্যতম প্রধান উপায় হলো বেশি বেশি দোয়া করা। বিশেষ করে হজের এই দিনগুলো এবং আরাফাহর ময়দান দোয়া কবুলের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উল্লেখ করে বলেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া।

খুতবার শেষ অংশে শায়খ আলি আল হুজাইফি বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আপনি হাজীদের হজ ও ইবাদত কবুল করুন। তাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার তওফিক দিন। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করুন।

একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে হারামাইন শরিফাইনের খেদমত এবং আল্লাহর মেহমানদের সেবা করার জন্য উত্তম জাজা ও তওফিক কামনায় বিশেষ দোয়া করে খুতবা সমাপ্ত করেন। 
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *