পুড়ে ছাই সেনিটারি ন্যাপকিন, খাতা ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী_____
বরাক তরঙ্গ, ৭ মে : হাইলাকান্দি শহরের এডুকেশন কমপ্লেক্স সংলগ্ন শিক্ষা বিভাগের গুদামে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে পুড়ে যায় বিপুল পরিমাণ সেনিটারি ন্যাপকিন, এফএলএন সামগ্রী, খাতা-সহ বিভিন্ন শিক্ষা সহায়ক উপকরণ। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি দমকল বাহিনীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, পুরাতন হাসপাতাল রোডে নবনির্মিত জেলা বিজেপি কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত এই গুদামঘর। একই ভবনের উপরতলায় রয়েছে মৎস্য বিভাগের জেলা কার্যালয়। একসময় ভবনটি জেলা পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে সেটিকে শিক্ষা বিভাগের গুদাম হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আশপাশের দপ্তরের কর্মীরা ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। সদর থানার পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
গুদামের ভেতরে মজুত থাকা প্লাস্টিকে মোড়ানো সেনিটারি ন্যাপকিন ও খাতায় আগুন লাগার ফলে ঘন ধোঁয়ায় এলাকা ঢেকে যায়। দমকল কর্মীরা প্রথমদিকে গুদামের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে জেলা বিজেপি সভাপতি কল্যাণ গোস্বামীর উদ্যোগে পুরসভা থেকে একটি বুলডোজার আনা হয়। বুলডোজারের সাহায্যে জানালা ভেঙে দিলে দমকল কর্মীরা পাইপের মাধ্যমে ভিতরে জল প্রবাহিত করতে সক্ষম হন। এরপর দীর্ঘ চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত জেলা কমিশনার তথা জেলা মিশন সমন্বয়ক অন্তরা সেন, বিদ্যালয় পরিদর্শক তাপস দত্ত-সহ শিক্ষা বিভাগের একাধিক আধিকারিক। অতিরিক্ত জেলা কমিশনার ঘটনাস্থল থেকেই জেলা কমিশনার অভিষেক জৈনকে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানান।

আগুনের মধ্যেও গুদাম থেকে হাজার হাজার প্যাকেট সেনিটারি ন্যাপকিন, বিনামূল্যের খাতা এবং এফএলএনের কার্যপত্রের বহু বস্তা বাইরে বের করে আনা হয়। স্থানীয় মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে সামগ্রী বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে বহু খাতা আগুনে পুড়ে যায় এবং জলেও নষ্ট হয়ে যায়।
খণ্ড শিক্ষা আধিকারিক মনোজ কৈরী জানান, প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করা হবে। তবে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলি অন্য গুদামে থাকায় সেগুলি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং বিতরণ প্রক্রিয়াও স্বাভাবিকভাবে চলছে।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে ৪৪০ ভোল্টেজ দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর থাকলেও এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



