বরাক তরঙ্গ, ২১ আগস্ট : চা ও প্রাক্তন চা-বাগান শ্রমিক সম্প্রদায়ের যুবসমাজের কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল একদিনের সেমিনার। অসম চা জনগোষ্ঠী শিক্ষা সংস্কৃতি ন্যাসের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারটি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস সেলের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপিনচন্দ্র পাল সেমিনার হলে আয়োজিত হয়। এতে চা-বাগান সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ, সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন ব্যক্তি, যুবক-যুবতী এবং এনএসএস স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও প্রধান অতিথি প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাভারতী পূর্বোত্তর ক্ষেত্রের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. পবন তিওয়ারি এবং শিলচর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধিকর্তা অধ্যাপক দিলীপ কুমার বৈদ্য। প্রধান অতিথি প্রিয়াঙ্ক কানুনগো বলেন, চা আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ চা-শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে চা-বাগান সম্প্রদায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। যুবসমাজকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার জন্য নতুন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে চিন ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ক্রমবর্ধমান সুযোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ন্যাসের সম্পাদক ড. অমল বাউরি সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও চা-বাগান সম্প্রদায়ের যুবসমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগগুলি তুলে ধরেন। তিনি জানান, তেজপুর ও সোনারিতে আদিবাসী চা ও প্রাক্তন চা-বাগান শ্রমিক সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ন্যাসের উদ্যোগে হস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে উদ্যোগপতিত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগেরও তিনি প্রশংসা করেন।
এর আগে স্বাগত ভাষণে প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. গঙ্গাভূষণ চা-বাগান ও প্রাক্তন চা-বাগান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। যুবসমাজকে ইতিবাচকভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন। চা-বাগান এলাকায় তামাকজাত দ্রব্যের নিয়মিত ব্যবহারের কারণে তামাকজনিত ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ড. পবন কুমার চা-বাগান শ্রমিকদের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং ব্রিটিশ আমলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁদের অসমে আগমনের ইতিহাস তুলে ধরেন। একইসঙ্গে চা-বাগান সম্প্রদায়ের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে অসম চাহ জনগোষ্ঠী শিক্ষা সংস্কৃতি ন্যাসের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক অশোক কুমার সেন বিভিন্ন অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। এনআইটির ডিরেক্টর অধ্যাপক দিলীপ কুমার বৈদ্য বলেন, চা-বাগান অধ্যুষিত গ্রামগুলির সঙ্গে এনআইটি কাজ করছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চা-বাগান সম্প্রদায়ের উন্নয়নে নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম ও সততার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন চা-বাগান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দক্ষিণ অসমের প্রান্ত প্রচারক গৌরাঙ্গ রায়। সেমিনারে চা-বাগান সম্প্রদায়ের নেতা, সমাজকর্মী, ছাত্রছাত্রী, এনএসএস স্বেচ্ছাসেবক এবং চা ও প্রাক্তন চা-বাগান শ্রমিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পিএইচডি গবেষক লুহিতা নায়কের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁকে প্রশংসাপত্রের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।



