অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সরোজকুমার পাল আর নেই, শোকস্তব্ধ এলাকা

Spread the news

এস পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১২ জুলাই :
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা এলাকার সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব সরোজকুমার পাল আর নেই। রবিবার ভোর ৪-০৮ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবরে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি পরিচিত মহল ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষকতার মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে সরোজ কুমার পাল সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক হিসেবে তিনি অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন, অমায়িক ব্যবহার এবং সামাজিক মূল্যবোধ তাঁকে এলাকার মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র করে তুলেছিল। অবসর গ্রহণের পরও সমাজ ও পরিচিত মহলের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ বজায় ছিল।

তাঁর প্রয়াণে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন পরিচিতজনেরা। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি যে আদর্শ, মূল্যবোধ ও স্মৃতি রেখে গেছেন, তা পরিবার-পরিজন, ছাত্রছাত্রী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, এক পুত্র, দুই কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণমুগ্ধকে। তাঁর একমাত্র পুত্র দেবাশিস পাল, যিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পশ্চিম কাছাড় জেলার বৌদ্ধিক প্রমুখ এবং সরস্বতী বিদ্যানিকেতন, কালাইনের প্রধান আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরোজকুমার পালের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বিপ্লবকান্তি পাল-সহ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। শোকবার্তায় তাঁরা প্রয়াত পালের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন ও সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে সমাজ একজন প্রবীণ শিক্ষক ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে হারাল।

এদিন স্থানীয় শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। জীবনের শেষযাত্রায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে আত্মীয়স্বজন, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকার বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর কর্মময় জীবন, শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *