খাস রাজধানীতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল! দিল্লি পুলিশের জালে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ৩ শার্প শুটার

Spread the news

১২ জুলাই : রাজধানীর বুকে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল দিল্লি পুলিশ। সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে খুনের উদ্দেশ্যে দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় ডেরা জমিয়েছিল কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই দলের তিন শার্প শুটার। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিন শুটারেরই পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এর আগেও একাধিক গুলিচালনার ঘটনায় এদের নাম জড়িয়েছিল এবং বেশ কিছুদিন ধরেই তারা গোয়েন্দাদের নজরে ছিল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃত শুটাররা মূলত বিদেশে বসে থাকা হ্যান্ডলার এবং একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নির্দেশ পাচ্ছিল। কাকে, কখন এবং কীভাবে আক্রমণ করতে হবে— সেই সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও নিখুঁত প্ল্যান আসছিল সীমান্ত পার থেকে।

বর্তমানে গুজরাতের সবরমতী জেলে বন্দি রয়েছে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই (Bishnoi Gang)। তবে জেলে বসেই সে তার আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি মার্কিন প্রসিকিউটররা লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ডানহাত সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে ভারতের ঘোষিত খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরকে কানাডায় হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর নেতৃত্বে চলা আন্তর্জাতিক ক্র্যাকডাউন ‘অপারেশন হার্ড বল’ (Operation Hard Ball)-এর অংশ হিসেবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। এই আন্তর্জাতিক অভিযানে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই সিন্ডিকেট খুন, তোলাবাজি, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো একাধিক মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।

বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কড়া পদক্ষেপ জারি রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই হরিয়ানার ঝাঝর জেলায় পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হয় লরেন্স বিষ্ণোই ও হ্যারি বক্সার গ্যাংয়ের দুই বিপজ্জনক শুটার। হরিয়ানার হাঁসিতে এক জিম মালিককে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিল তারা। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং হরিয়ানা স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) যৌথ অভিযানে নিহত হয় ওই দুই অপরাধী।

হরিয়ানার এনকাউন্টারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ দিল্লিতে তিন শুটার ধরা পড়ায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের জাল কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ফের কপালে ভাঁজ পড়ছে তদন্তকারীদের। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। এই চক্রের সাথে যুক্ত বাকি সহযোগীদের সন্ধান এবং তাদের আগামী পরিকল্পনা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *