রবীন্দ্রভবনের ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল, দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে দাগ; তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ অক্টোবর : বাইরে নতুন রঙের প্রলেপ, অথচ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে জীর্ণ পরিকাঠামোর ছবি। কোথাও ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল, কোথাও দেওয়াল বেয়ে নামছে জলধারা। স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালে জমেছে কালো দাগ। সংস্কারের জন্য ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের পরও পাথারকান্দির ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্রভবনের এমন বেহাল দশা ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি নজরে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাথারকান্দির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। পাশাপাশি, গোটা সংস্কারকাজের বিস্তারিত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল থেকে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের উদ্যোগে রবীন্দ্রভবনের সংস্কারের জন্য ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় পাথারকান্দি ব্লক উন্নয়ন বিভাগের হাতে। দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে ভবনটি নতুন রূপ পাবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ফের প্রাণ ফিরে পাবে—এমনটাই আশা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সংস্কারের পরও ছাদ থেকে জল পড়া, দেওয়ালের ফাটল এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে মূলত ভবনের বাইরের অংশে রং করা, সামনের দিকে লোহার গ্রিল বসানো এবং কয়েকটি পাখা লাগানোর মতো কাজ হয়েছে। অথচ ছাদের ফুটো মেরামত, দেওয়ালের ফাটল বন্ধ করা এবং জল চুঁইয়ে পড়ার সমস্যা দূর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ কতটা হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ভেতরে জল জমছে। কোথাও কোথাও সিলিংয়ের অবস্থাও বিপজ্জনক বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবহারকারীরা। বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, পাথারকান্দির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র রবীন্দ্রভবন একসময় নাটক, সাহিত্যসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির প্রাণকেন্দ্র ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির মঞ্চ, দরজা-জানালা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ভবনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডেকে কাজের গুণগত মান এবং অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে জানা গেছে। এরপর পাথারকান্দি সমজেলার আয়ুক্তকে পুরো সংস্কারকাজ খতিয়ে দেখে অবিলম্বে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে কি না এবং নির্মাণের মান বজায় রাখা হয়েছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, রবীন্দ্রভবন কেবল একটি সরকারি ভবন নয়, এটি পাথারকান্দির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বরাদ্দকৃত ২০ লক্ষ টাকার খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু বাইরের সৌন্দর্যবর্ধন নয়, ছাদ, দেওয়াল, মঞ্চ ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কার জরুরি। তদন্তে কোনও গাফিলতি বা নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।।এখন তদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পাথারকান্দিবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রবীন্দ্রভবনকে নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করে পুনরায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপযোগী করে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *