আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক-জনগণনা সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজিত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ মে : আসন্ন জনগণনা ২০২৭-কে সামনে রেখে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল “প্রি-সেনসাস অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম”। ভারতের জনগণনা দফতর, অসমের উদ্যোগে এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সম্প্রতি আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ, জনগণনা দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর এস মুখার্জি, প্রাক্তন জয়েন্ট ডিরেক্টর ও পরামর্শদাতা ড. এস কে সিংহ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দিব্যজ্যোতি ভট্টাচার্য।

অনুষ্ঠানের সূচনায় পরিসংখ্যান বিভাগের গবেষক নবারুণ চক্রবর্তী অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানান। পরে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত ভাষণে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আর শঙ্কর জনগণনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে সাম্প্রতিক বহু জনমিতিক গবেষণা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশা কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষকদের জনগণনার মূল গণনাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

মূল বক্তব্যে ড. এস কে সিংহ জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জনগণনা ২০২৭। তিনি জনগণনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই তথ্য দেশের জনমিতিক, শিক্ষাগত ও আর্থ-সামাজিক চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। তিনি এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, আগামী ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নাগরিকেরা www.se.census.gov.in পোর্টালের মাধ্যমে স্ব-নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে তিনি জনগণনা ২০২৭-এর মূল প্রতিপাদ্য “জনগণনা সে জনকল্যাণ” উন্মোচন করেন।

অধ্যাপক দিব্যজ্যোতি ভট্টাচার্য জনগণনার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ও তার বিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, একসময় সামরিক শক্তি নিরূপণের জন্য জনগণনা পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বোঝার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি বিভাগের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের ধন্যবাদ জানান।

ডেপুটি ডিরেক্টর এস মুখার্জি জানান, দেশের প্রতিটি রাজ্যের তিনটি জেলায় ইতিমধ্যে পাইলট সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “বিকশিত ভারত ২০৪৭” ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনগণনা ২০২৭ স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতের অগ্রগতির মূল্যায়নে সহায়ক হবে। তিনি আরও জানান, রাজ্যের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ জনগণনা দফতর ও পরিসংখ্যান বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে জনগণনার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

অনুষ্ঠানে জনগণনা দফতরের পক্ষ থেকে একটি সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে আশা কর্মীদের দায়িত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরা হয়। পরে পারফর্মিং আর্টস বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘কাউন্ট এভরি লাইফ’ শীর্ষক একটি পরিবেশনা উপস্থাপন করেন, যেখানে জনগণনা চলাকালীন ভ্রান্ত তথ্যের সমস্যা নাট্যরূপে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আশা কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের বিশেষভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। একইসঙ্গে পারফর্মিং আর্টস বিভাগের শিল্পীদেরও সংবর্ধনা প্রদান করেন উপাচার্য।

এরপর এস মুখার্জি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনায় ভারতের বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতিতে জনগণনা পরিচালনার জটিলতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে জনগণনার তথ্য সম্পূর্ণভাবে নাগরিকদের স্বেচ্ছায় প্রদত্ত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং কোনও নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না। উপস্থাপনার শেষে বিভিন্ন অধ্যাপক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। সাংস্কৃতিক পর্বে পরিসংখ্যান বিভাগের গবেষকরা অসমের ঐতিহ্যবাহী বিহু নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি বাংলা সংগীত পরিবেশনাও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

বিকেলে সহকারী অধ্যাপক ড. তনুশ্রী দেব রায়ের তত্ত্বাবধানে একটি ইন্টার‌্যাকটিভ কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ৫০টি প্রশ্নভিত্তিক এই কুইজে সঠিক উত্তরদাতাদের পুরস্কৃত করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিতদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন কর্মসূচির ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ড. জে গগৈ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *