মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ মে : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ মে শনিবার ১১০ নং শরীফনগর এলপি স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ও আলোচনা অনুষ্ঠান। মাল্যদান, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক মনোরম ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে উঠে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর।অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মমতা রক্সিত, শিক্ষক জামিল উদ্দিন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় কবিগুরুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ণাঢ্য জীবন, সাহিত্যকর্ম, মানবতাবাদী দর্শন, দেশপ্রেম ও বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও বর্তমান সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মমতা রক্সিত, শিক্ষিকা নাজরানা বেগম, সাহানা বেগম চৌধুরী, জয়শ্রী নাথ, বেগম শাহনাজ সুলতানা, আঁখি চৌধুরী, শিক্ষক জামিল উদ্দিন এবং বিদ্যালয় সভাপতি কামাল উদ্দিন।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন কবিই নন, তিনি ছিলেন এক অনন্য দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে আলোকিত সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা যোগাবে।আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের কচিকাঁচা ছাত্রছাত্রীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটিকে আরও প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় করে তোলে। শিক্ষার্থীরা কবিগুরুর রচিত গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। রবীন্দ্র সংগীতের মধুর সুর, কবিতার আবেগঘন আবৃত্তি এবং নৃত্যের ছন্দে মুখরিত হয়ে উঠে সমগ্র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও অতিথিবৃন্দের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।অনুষ্ঠানকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ আয়োজন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।সবশেষে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন ও বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।



