কাটিগড়ায় ওভারলোড টিপার ধরল মালিক সংগঠন, নড়েচড়ে বসল পরিবহন বিভাগ

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৩ সেপ্টেম্বর : যে কাজ পরিবহন বিভাগ ও বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের করার কথা, এবার সেই কাজই করে দেখাল ‘দ্য টিপার ওনার্স অব কাটিগড়া’। মেঘালয় থেকে বরাক উপত্যকায় চুনাপাথর বোঝাই টিপার প্রবেশের পথে কালাইনছড়ায় গত প্রায় দু’মাস ধরে গাড়ি আটকে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের মধ্যেই সংগঠনের কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়ল একের পর এক ওভারলোড পাথর বোঝাই টিপার।
সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে বৈধ কাগজপত্র ও রাজস্ব পরিশোধ করে পাথর আনার পরও কেন তাদের গাড়ি কালাইনছড়ায় আটকে দেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্ন তুলে গত দু’দিন ধরে কাটিগড়ার মোহনপুরে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন ‘দ্য টিপার ওনার্স অব কাটিগড়া’র কর্মকর্তারা।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিজেরাই টিপারগুলির ওজন পরীক্ষা শুরু করেন সংগঠনের সদস্যরা। প্রথম দিনেই নির্ধারিত ওজনের তুলনায় অতিরিক্ত পাথর বোঝাই পাঁচটি টিপার আটক করা হয়। পরে সেগুলি বন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এরপর বুধবারও অভিযান অব্যাহত রাখেন সংগঠনের কর্মকর্তারা। এদিন আরও তিনটি ওভারলোড পাথর বোঝাই টিপার আটক করে পরিবহন বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে গাড়িগুলির ওজন ও নথিপত্র পরীক্ষা করেন। তদন্তের পর আটটি টিপারকেই ওভারলোডের অভিযোগে জরিমানা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যে ওভারলোড গাড়ি পরীক্ষা করে জরিমানা করার দায়িত্ব পরিবহন বিভাগের, সেই কাজ কেন করতে হচ্ছে টিপার মালিকদের সংগঠনকে? ঘটনাস্থলে বন বিভাগের এক বিট অফিসারও স্বীকার করেন, আটক করা পাথর বোঝাই গাড়িগুলি ওভারলোড ছিল। তবে গাড়ির কাগজপত্র এবং ওজন নিয়ম অনুযায়ী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা বন বিভাগের কাজ হলেও ওভারলোড পরীক্ষা ও জরিমানা করার মূল দায়িত্ব পরিবহন বিভাগের বলে তিনি জানান।

এদিকে, ‘দ্য টিপার ওনার্স অব কাটিগড়া’র কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার থেকে নথিপত্র যাচাই করে বৈধ কাগজপত্র থাকা টিপারগুলিকে বরাক উপত্যকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। যদিও ছোটখাটো ত্রুটির ক্ষেত্রেও তাদের জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
সংগঠনের কর্মকর্তাদের আরও অভিযোগ, একদিকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের টিপার নিয়ে বারবার হয়রানির অভিযোগ উঠছে, অন্যদিকে বহিরাজ্য থেকে আসা অতিরিক্ত পাথর বোঝাই লরিগুলি অনেক ক্ষেত্রেই নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। তাদের প্রশ্ন, স্থানীয় টিপারগুলির ক্ষেত্রে এত কড়াকড়ি থাকলেও, বহিরাজ্যের নামিদামি কোম্পানির ওভারলোড গাড়িগুলির বিরুদ্ধে একই রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?

সংগঠনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, তারা যদি নিজেরা ওজন পরীক্ষা করে ওই ওভারলোড টিপারগুলিকে আটক না করতেন, তাহলে সেগুলিও অনায়াসে নির্ধারিত স্থানে যেতে পারতো। ফলে গোটা ঘটনায় পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ওভারলোডের বিরুদ্ধে মালিক সংগঠনের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে, তেমনই অন্যদিকে নিজেদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় টিপার মালিকদের সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *