
৩১ অক্টোবর : ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। দেশীয় নেভিগেশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ করা হলো পরবর্তী প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট NVS-03। শুক্রবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে GSLV-F18 রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয় এই উপগ্রহ। ISRO-র এই সাফল্যে বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাঁদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার মাধ্যমে বারবার দেশকে গর্বিত করছেন।
শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে GSLV-F18 রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয় NVS-03। প্রায় ১৮ মিনিটের মধ্যে উপগ্রহটিকে নির্দিষ্ট অরবিট (GTO)-এ স্থাপন করতে সক্ষম হয় ISRO। এই রকেটের সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো হয় ২,২৩২ কেজি ওজনের উপগ্রহ।

শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় X-এ ISRO-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদী লেখেন, ‘দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাঁদের কাজের মাধ্যমে বারবার ভারতকে গর্বিত করছেন। NVS-03-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা NavIC-কে আরও শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই উপগ্রহে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।’ এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নেভিগেশন পরিষেবাও আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
NVS-03 হল ISRO-র পরবর্তী প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব উপগ্রহ-নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থা NavIC (Navigation with Indian Constellation)-এর পরিষেবা উন্নত করাই এর মূল লক্ষ্য। আমেরিকার GPS-এর মতো এই ব্যবস্থার সাহায্যে অবস্থান নির্ণয়, দিকনির্দেশ এবং সময়ের হিসাব পাওয়া যায়।

নতুন উপগ্রহে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটোমিক ক্লক (Atomic Clock) বা পরমাণু ঘড়ি। পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে L1 নেভিগেশন সিগন্যাল। এতদিন NavIC ব্যবস্থায় মূলত L5 এবং S-ব্যান্ডের সিগন্যাল ব্যবহার করা হতো। নতুন L1 সিগন্যাল যুক্ত হওয়ায় NavIC-এর সঙ্গে অন্যান্য উপগ্রহ-নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থার সামঞ্জস্য বাড়বে। সাধারণ মানুষের নেভিগেশন পরিষেবা থেকে শুরু করে পরিবহণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু ভারতেরই নয়, পাশাপাশি দেশের সীমানা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নেভিগেশন পরিষেবা নিখুঁত ভাবে দেওয়ার লক্ষ্য এই স্যাটেলাইটের। এর সাহায্যে গাড়ি, ট্রেন ও জাহাজের অবস্থান নির্ণয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উপকৃত হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।
এই উৎক্ষেপণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ভারতের নিজস্ব NavIC ব্যবস্থার জন্য। এর আগে কয়েকটি উপগ্রহের কার্যক্ষমতা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে NavIC-এর নেভিগেশন পরিষেবা কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি উৎক্ষেপণ করা NVS-02 উপগ্রহটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থায় কার্যকর উপগ্রহের সংখ্যা কমে যায়। ফলে NavIC ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। NVS-03-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন পরিষেবাকে ফের শক্তিশালী করে তুলবে।
খবর : এইসময় অনলাইন।



