বরাক তরঙ্গ, ৩ জুলাই : বর্ষাকালে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুয়াহাটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়। শুক্রবার অনিল নগর, তরুণ নগর ও এবিসি এলাকায় গিয়ে তিনি নিকাশি ব্যবস্থা, পাম্পিং স্টেশন এবং বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের সামগ্রিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশনের কার্যক্ষমতা, নর্দমার জলপ্রবাহ এবং ভারী বর্ষণের সময় দ্রুত জল নিষ্কাশনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। কোথাও যাতে নিকাশি ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি না হয় এবং পাম্পগুলি নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল থাকে, সে বিষয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কৌশিক রায় জানান, যেসব এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বা জরুরি মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। জলাবদ্ধতা রোধে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, বর্ষাকালে জল জমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই নিকাশি ব্যবস্থার প্রতিটি অংশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কোথাও সমস্যা দেখা দিলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বর্ষা এলেই গুয়াহাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন, পাম্পিং স্টেশনগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং জলাবদ্ধতার স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এদিনের পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিউ গুয়াহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দীপ্লু রঞ্জন শর্মা, জিএমডিএ-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অন্বামুথন এম. পি., জিএমসি-র কমিশনার চিন্ময় ফুকনসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্ষা মরশুম জুড়ে জলাবদ্ধতা রোধে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।



