আবেগ-শ্রদ্ধায় পাথারকান্দিতে পালিত ভাষা শহিদ দিবস

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ১৯ মে : মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মবলিদান দেওয়া একাদশ ভাষা শহিদদের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে আবেগ, শ্রদ্ধা ও গৌরবের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার পাথারকান্দিতে পালিত হল মহান বাংলা ভাষা শহিদ দিবস। দিনভর শ্রদ্ধাঞ্জলি, শোভাযাত্রা ও মোমবাতি মিছিলে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর সম্মান জানালেন সর্বস্তরের মানুষ।১৯ মে ঐতিহাসিক মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অমর সংগ্রামের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে আবারও আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠল সমগ্র বাঙালি সমাজ।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৃহত্তর বরাক উপত্যকার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পাথারকান্দি সমজেলায় অত্যন্ত মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল উনিশে মে মহান বাংলা ভাষা শহিদ দিবস। দিনভর নানা কর্মসূচি, শ্রদ্ধাঞ্জলি, শোভাযাত্রা ও মোমবাতি মিছিলের মধ্য দিয়ে একাদশ ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করল পাথারকান্দির সর্বস্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই পাথারকান্দি রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্থায়ী শহিদ স্মৃতি সৌধে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। শহিদ বেদীকে ফুল, আলোকসজ্জা ও ব্যানারে সজ্জিত করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ শহিদ বেদীতে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মোমবাতি প্রজ্বলন, পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদানের মাধ্যমে একাদশ বীর শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়।স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘চতুরঙ্গ’, পাথারকান্দি মণ্ডল বিজেপি সহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং শহরের বিশিষ্ট নাগরিকরা পৃথক পৃথকভাবে শহিদ বেদীতে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখা হয়।

এদিন সকাল প্রায় এগারোটার সময় সামাজিক সংগঠন চতুরঙ্গের উদ্যোগে পাথারকান্দি মডেল উচ্চতর বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন এবং ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রায় মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা শহর।

দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির পর সন্ধ্যায় আবারও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সামাজিক সংগঠন চতুরঙ্গের উদ্যোগে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এক বিশাল মোমবাতি মিছিল বের করা হয়। স্থানীয় রবীন্দ্রভবনের শহিদ স্মৃতি সৌধ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে পুনরায় শহিদ বেদীর পাদদেশে এসে সমাপ্ত হয়। মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠা শহরের পরিবেশ যেন ভাষা শহিদদের প্রতি নীরব শ্রদ্ধার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।এছাড়াও সন্ধ্যার সময় শহরের প্রায় প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। গোটা শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক আবেগময় ও শোকগম্ভীর পরিবেশ।মোমবাতি মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পঙ্কজ শ্যাম, চতুরঙ্গের সভাপতি সুরজিৎ হোমচৌধুরী, পুলক সোম, সুরঞ্জন দাস, মধুমিতা মণ্ডল, রূপশ্রী কর, রাখি দাস, শুভাশীষ চক্রবর্তী, সঞ্জীব দে, সঞ্চিতা দেব, সুব্রত পুরকায়স্থ, শংকরলাল দে, তাপস পাল, দ্বিপান্বিতা দেব, দীপশিখা দেব, পীর ছাদ উদ্দিন সহ আরও অনেকে।

উনিশে মে কেবল একটি দিন নয়, বরং বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া সেই বীর শহিদদের অমর স্মৃতিকে বুকে ধারণ করার দিন। পাথারকান্দির মানুষও এদিন আবার প্রমাণ করে দিল বাংলা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, আবেগ ও অস্তিত্বের প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *