বরাক তরঙ্গ, ৯ জুলাই : নগাঁও জেলায় ফের এক গণপিটুনির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভি-নীল হত্যাকাণ্ডের করুণ স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা থাকতেই জেলার সামাগুড়ি বিধানসভা এলাকার রঙামাটি অঞ্চলে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। খুনের মামলায় অভিযুক্ত এক যুবককে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বিশাল সাওতাল নামে এক যুবক সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। নগাঁওয়ের সালনা এলাকায় এক মহিলা ও তাঁর ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বিশাল এক বছর ধরে কারাগারে ছিলেন। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি গণরোষের শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
স্থানীয়দের দাবি, বিশাল সাওতাল নিজের স্কুটি নিয়ে রঙামাটি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্কুটির তেল শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি স্কুটিটি ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এলাকার একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে আগের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিশালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রঙামাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সদৌ অসম চা জনগোষ্ঠী ছাত্র সংস্থা। সংগঠনের এক প্রতিনিধি বলেন, “আজ সকালে আমরা জানতে পারি, মা ও ছেলেকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সিমনা বস্তির বিশাল সাওতালকে রঙামাটির কছারী বস্তিতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আদালত তাঁকে এখনও দোষী সাব্যস্ত করেনি। তাই এভাবে তাঁকে হত্যা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। চা জনগোষ্ঠী ছাত্র সংস্থা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। তিনি যদি দোষীও হন, তাহলে তাঁকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে, তাদের অপরাধ আরও গুরুতর। এই ঘটনায় পুলিশের উচিত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”



