২৫ মে : দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ডাক্তারি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র বিরুদ্ধে সোমবার নজিরবিহীন ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রশ্ন ফাঁসের জেরে ২০২৬ সালের NEET-UG পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তীব্র অসন্তোষ: ‘অতীতের এত বড় বিপর্যয় থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও শিক্ষা নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক’।
সুপ্রিম কোর্টের ডেডলাইন
ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (FAIMA) NTA-র ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’-কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করেছে। এই পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে NTA-কে সরিয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত সংস্থার হাতে সঁপার দাবি জানিয়েছে তারা।
সোমবার বিচারপতি পি এস নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্র ও NTA-র জবাব তলব করল। বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ, ২০২৪ সালের নির্দেশিকা মেনে NEET-এর নিরাপত্তা জোরদার করতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তার খতিয়ান দিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে)-এর মধ্যে NTA-কে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে।
একই সঙ্গে NTA-র কার্যপদ্ধতি সংস্কার, তথ্য সুরক্ষা এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যে উচ্চপর্যায়ের নজরদারি কমিটি গঠন করেছিল শিক্ষা মন্ত্রক, তার চেয়ারম্যান ডঃ কে রাধাকৃষ্ণনকেও তিন দিনের মধ্যে কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী শুক্রবার (২৯ মে)।
গত ৩ মে হয়েছিল NEET পরীক্ষা। তার আগেই প্রশ্নপত্র থেকে ১০০-রও বেশি প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ। এর জেরে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে CBI।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার পথেই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। তাই FAIMA-র দাবি, প্রশ্নপত্র ডিজিটাল লক করতে হবে। আর পুরো পরীক্ষা CBT অর্থাৎ,‘কম্পিউটার বেসড টেস্ট’ বা অনলাইন ফর্ম্যাটে করতে হবে। আদালতের নজরদারিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিও খতিয়ে দেখছে আদালত।



