মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ মে : ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে অসমের বরাক উপত্যকায় ফুটে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির। শ্রীভূমি, কাছাড় ও হাইলাকান্দি জেলার বহু মুসলিম পরিবার এবার গরুর পরিবর্তে ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য পশু কোরবানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নেওয়া এই উদ্যোগ সমাজজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত। স্থানীয়দের মতে, “ধর্ম যার যার, মানবতা সবার”—এই চেতনাকেই সামনে রেখেই এবারের ঈদ-উল আজহার প্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আহ্বানে সাড়া দিয়েই বহু এলাকায় মুসলিম পরিবারগুলি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বরাক উপত্যকার বিভিন্ন পশুর বাজারে ইতোমধ্যেই ছাগল ও মহিষের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক পরিবার জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার লক্ষ্যেও তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এক বাসিন্দার কথায়, “ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা দেখা যাচ্ছে। অনেকে একে “অসমের গর্ব” ও “মানবতার জয়” বলে অভিহিত করেছেন। ইসলাম ধর্মীয় বিশিষ্টজন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ‘করিমগঞ্জ’ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী বলেন, “ধর্মীয় ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসাই শান্তিপূর্ণ সমাজের মূল শক্তি। ঈদ-উল আজহার ত্যাগের শিক্ষা সমাজে সম্প্রীতির নতুন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।”
বিশিষ্ট সমাজসেবী আব্দুল মান্নান বলেন, “অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে।” অন্যদিকে বিশিষ্ট সাংবাদিক মলয়কুমার দাস মন্তব্য করেন, “পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সমাজ আরও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
ঈদ-উল আজহার মূল শিক্ষা আত্মত্যাগ, মানবতা ও সহানুভূতি। সেই শিক্ষাকে ধারণ করেই এবারের কোরবানিতে বরাক উপত্যকায় সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত গড়ে উঠছে, তা নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বার্তা হয়ে উঠেছে।



