মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ এপ্রিল : অবিরাম ভারি বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাথারকান্দির জনজীবন। টানা কয়েকদিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবাও প্রায় ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ঝড়ের পর টানা দু’দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার পর সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, সপ্তাহান্তের প্রবল বর্ষণে পরিস্থিতি ফের অবনতির দিকে যায়। গত তিনদিন ধরে পাথারকান্দি ও লোয়াইরপোয়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা কার্যত বন্ধ। ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী সকলেই চরম সমস্যায় পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পড়ুয়ারা। আলো ও ইন্টারনেটের অভাবে অনলাইন ক্লাস, পড়াশোনার উপকরণ সংগ্রহ এবং যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মোবাইল চার্জের অভাবে অনেকেই জরুরি ফোনকল করতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড়ে একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়া এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। অনেক জায়গায় ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়েও পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আগাম রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতি ও ধীরগতির মেরামত কাজের ফলেই এই দুর্ভোগ বলে অভিযোগ।
বিদ্যুতের অভাবে পানীয় জলের সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। মোটরনির্ভর জলব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বহু এলাকায় জলসংকট দেখা দিয়েছে, যা নারী ও বয়স্কদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন—ছোট দোকান, ফ্রিজ-নির্ভর ব্যবসা ও অনলাইন লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক আধিকারিক জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণে মেরামতের কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পরিষেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।



