২৭ মে : স্ত্রীকে অপছন্দ করতেন। তাই মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুজরাতের বানাসকাঁঠা জেলার পালানপুর পশ্চিম থানা এলাকার ঘটনা। তদন্তে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ ঘটনা। ব্যক্তি-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তের নাম নিকেশ পটেল। গণেশপুরা এলাকার বাসিন্দা। গত ১৯ মে পালানপুর পশ্চিম থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ বলে অভিযোগ দায়ের করেন। নিজেকে উদ্বিগ্ন স্বামী হিসেবেই পুলিশের সামনে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তদন্ত এগোতেই তাঁর বক্তব্যে একের পর এক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট জিগনেশ গামিত-এর তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তদন্ত। জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন নিকেশ। পুলিশকে জানান, স্ত্রীর প্রতি বিরক্তি থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাঁকে বিক্রি করে দেন। তদন্তকারীদের দাবি, আগেই পুরো লেনদেনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এরপর তড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ। নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে তরুণীকে উদ্ধার করেন তাঁরা। উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশকে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানান নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগ, বন্দি করে রেখে তাঁকে একাধিক বার যৌন নির্যাতন ও গণধর্ষণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর সমস্ত সোনার গয়নাও খুলে নিয়েছে স্বামী। পরে সেগুলি বিক্রি করে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিকেশ পটেলের সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত ছিল সঞ্জয় ঠাকোর, অশোক ঠাকোর এবং সচিন দরবার-সহ আরও কয়েকজন। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘুরতে যাওয়ার নাম করে ওই তরুণীকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছিল। পরে তাঁকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতে মানবপাচার, গণধর্ষণ, ডাকাতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। সাত জন রয়েছে জেল হেফাজতে।
ঘটনাটি সামনে আসতে গুজরাতজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। নিজের স্বামীর হাতেই এমন ভয়ঙ্কর প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ায় হতবাক তদন্তকারীরাও। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



