আশ্রয় শিবিরে গৃহহীন পরিবার, আতঙ্কে আরও ৭০টির বেশি পরিবার______
বরাক তরঙ্গ, ১৮ মে : কাটিগড়া এলাকার মাদারপুর গ্রামে বরাক নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ১০টি পরিবারের বসতবাড়ি। আকস্মিক এই ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো বর্তমানে মাদারপুর পাবলিক এমই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ও শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত টানা বর্ষণের ফলে নদীর পাড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে শুরু করে। বর্তমানে আরও ৭০টির বেশি পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু বাড়ি এখন নদীর কিনারা থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলার সংখ্যাই বেশি। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় অনেক পরিবার আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার সারারাত জেগে নিজেদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বরাক নদীর ভাঙন এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর কখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শুষ্ক মৌসুমে একাধিকবার নদী প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও অবহেলার ফলেই আজ ভয়াবহ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমেদ পান্না। উল্লেখ্য, সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর মাদারপুর গ্রামটি বর্তমানে উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিধায়ক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আশ্রয় শিবিরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি জানান, সরকারি সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে।
নিজেদের একমাত্র ভিটেমাটি হারিয়ে বহু পরিবার কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই প্রশ্ন— বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর কি এবার প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে? বর্তমানে জলসম্পদ বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।



