বরাক তরঙ্গ, ২৪ অক্টোবর : হাজো শিক্ষাখণ্ডের অধীন খোপনিকুছি আঞ্চলিক হাইস্কুলে এক হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে খাতুনের মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের কথিত অবহেলার কারণেই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যালয়ে গিয়েছিল উম্মে খাতুন। নিয়মিত ক্লাসেও অংশ নিয়েছিল সে। কিন্তু বিদ্যালয় ছুটির সময় আচমকাই বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে ছাত্রীটি। সহপাঠীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করে এবং সাহায্যের আবেদন জানায়। অভিযোগ, সেই সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেনি।

এরপর শারীরিক যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে একসময় নিথর হয়ে পড়ে উম্মে খাতুন। ছাত্রীর মৃত্যুর পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০৮ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য যোগাযোগ করে বলে জানা গেছে। কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে হতভাগ্য ছাত্রীটি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ছাত্রীর পরিবারে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ বাবা-মা। অন্যদিকে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। যথাসময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে ছাত্রীটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে একাধিক ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।



