বরাক তরঙ্গ, ২৭ জুন : শ্রীভূমি জেলার রামকৃষ্ণনগর সমষ্টির অন্তর্গত ঘোড়ামারা-কচুয়াদম মডেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কালীগঞ্জ জনজাগরণ কমিটি। সম্প্রতি কমিটির সদস্যরা হাসপাতাল পরিদর্শন করে ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ ডাঃ উৎপল মাহুতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে কমিটির সদস্যরা জানতে পারেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নেই। পাশাপাশি নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, এক্স-রে অপারেটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অর্থে স্থাপিত এক্স-রে মেশিনসহ আধুনিক রোগ নির্ণয়কারী সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও দক্ষ কর্মীর অভাবে সেগুলির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত জরুরি পরিষেবার জন্য কোনও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা নেই বলেও জানা গেছে। এছাড়া নিরাপত্তারক্ষীর অভাবে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতার অভাবও রোগী ও তাঁদের পরিজনদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সরকারি সাফাইকর্মী না থাকায় হাসপাতাল পরিচালন সমিতির উদ্যোগে একজন অস্থায়ী সাফাইকর্মী নিয়োগ করা হলেও এত বড় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা তাঁর একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

জনজাগরণ কমিটির অভিযোগ, বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই মডেল হাসপাতালটি পর্যাপ্ত চিকিৎসক, কর্মী এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে ঘোড়ামারা, কালীগঞ্জ এবং সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ মানসম্মত সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য হোসেন আহমদ, আফজল হোসেন তাপাদার, জাকারিয়া হোসেন রাজ, আলমাছ আহমদসহ অন্যান্যরা রামকৃষ্ণনগর সমষ্টির বিধায়ক বিজয় মালাকার এবং স্বাস্থ্য দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাসপাতালের প্রকৃত চিত্র ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে।

কমিটির পক্ষ থেকে অবিলম্বে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা পরিষেবা চালু, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা জোরদার এবং হাসপাতালের সামগ্রিক অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এলাকার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত মানের স্বাস্থ্যসেবা পেতে সক্ষম হবেন।



