১৬ মে : বাণিজ্য থেকে তাইওয়ান, AI থেকে ইরান— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিঙের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ১৬ মে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার বার্তা দিয়েছে, তবুও বাণিজ্য যুদ্ধ, তাইওয়ান, ইরান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ইস্যুতে মতপার্থক্য এখনও স্পষ্ট।
২০১৭ সালের পর এই প্রথম চিন সফরে গিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বেজিংয়ে দুই দিনব্যাপী এই সফরে বৈঠক, নৈশভোজ ও একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন দুই রাষ্ট্রনেতা। ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন Elon Musk, Jensen Huang-সহ একাধিক মার্কিন শিল্পপতি। সফরের গুরুত্ব তুলে ধরতে শি জিনপিং ট্রাম্পকে Temple of Heaven পরিদর্শনও করান।
বৈঠক শেষে শি জিনপিং জানান, দুই দেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা, বাস্তব সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলি মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, চিন সফরে তিনি অত্যন্ত মুগ্ধ এবং দুই দেশ ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি তৈরি করেছে।
তবে এখনও কোনও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। গত বছর আমেরিকা চিনা পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয় চিনও। বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি পাল্টা শুল্কও চাপানো হয়। মার্কিন ট্রেজারি সচিব Scott Bessent জানিয়েছেন, দুই দেশ ট্রেড কাউন্সিল এবং ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মাধ্যমে কম সংবেদনশীল পণ্যে শুল্ক হ্রাস এবং বিনিয়োগ সহজ করার পথ খোঁজা হবে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, চিন প্রায় ২০০টি Boeing বিমান এবং ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে পারে। যদিও এই দাবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি চিন সরকার।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তেজনাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। ট্রাম্প বলেন, তারা যুদ্ধের অবসান চান এবং ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র দেখতে চান না। পাশাপাশি হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে চিন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না। যদিও চিনের সরকারি বিবৃতিতে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও উল্লেখ করা হয়নি। বেজিং শুধু জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি জিনপিংয়ের অবস্থান ছিল সবচেয়ে কড়া। তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানান, তাইওয়ান প্রশ্ন ভুলভাবে সামলানো হলে চিন ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে ১৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে শক্তিশালী AI প্রযুক্তি যাতে কোনও অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর হাতে না পৌঁছায়, সে বিষয়ে যৌথ প্রোটোকল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্ককে “constructive strategic stability”-র ভিত্তিতে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, সহযোগিতা, সীমিত প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির উপরই ভবিষ্যতের মার্কিন-চিন সম্পর্ক নির্ভর করা উচিত।



