বিভিন্ন দেশের আহ্বানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

Spread the news

১৬ মে : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং বিভিন্ন দেশের আহ্বানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না বলেও মন্তব্য করেছেন।

চিন সফর শেষে রাষ্ট্রীয় বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা মূলত অন্য দেশগুলোর অনুরোধে যুদ্ধবিরতি করেছি। আমি নিজে এর পক্ষে ছিলাম না। পাকিস্তানের জন্য আমরা এটি করেছি। তারা অসাধারণ মানুষ—সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীও।”

তিনি আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য বন্ধ রাখার একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে তেহরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দেন।

এদিকে আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এখনো ব্যর্থ হয়নি, যদিও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ ও দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের কারণে আলোচনা প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

আরাগচি বলেন, ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চায় যাতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। তবে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের কোনো আস্থা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেই কেবল অগ্রগতি সম্ভব হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বার্তা আসছে, যা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছে।

চিনের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকেও স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। আরাগচির ভাষায়, ইরান ও চিনা কৌশলগত অংশীদার এবং বেইজিংয়ের সদিচ্ছার বিষয়ে তাদের আস্থা রয়েছে।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণে রাশিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটিও আলোচনার পরবর্তী ধাপে বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে শর্ত : হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত জটিল” উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, যুদ্ধে জড়িত দেশ ছাড়া অন্য সব দেশের জাহাজকে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। তবে এসব জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ড্রোন উৎপাদন ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয় ব্যক্তির তথ্য দিলে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, “কিমিয়া পার্ট সিভান” নামের প্রতিষ্ঠানটি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস বাহিনীর জন্য ড্রোন পরীক্ষা, উন্নয়ন ও সরবরাহে জড়িত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *