নারী ও শিশুদের উপর সহিংসতা বন্ধের দাবিতে গোয়ালপাড়ায় দুই সহস্রাধিক মহিলার মিছিল

বরাক তরঙ্গ, ৩১ অক্টোবর : অল ইন্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের (এআইএমএসএস) অসম রাজ্য কমিটির উদ্যোগে গোয়ালপাড়া শহরে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী চতুর্থ রাজ্য মহিলা সম্মেলন। শনিবার গোয়ালপাড়া হাইস্কুলের মাঠে সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশের আগে রাজ্যের ২০টি জেলার দুই সহস্রাধিক মহিলার অংশগ্রহণে এক বিশাল মিছিল বের হয়। গোয়ালপাড়া ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছায়।
মিছিল থেকে নারী ও শিশুদের উপর সব ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে বন্ধ করা, মদ, মাদকদ্রব্য ও পর্নোগ্রাফির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

এআইএমএসএসের রাজ্য সভানেত্রী ড. চিত্রলেখা দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রকাশ্য সমাবেশের উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রাক্তন রাজ্য সভানেত্রী ইনা হোসেন। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপকোঁওর জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার কন্যা জ্ঞানশ্রী পাঠক এবং বিশিষ্ট নারী নেত্রী মীনাক্ষী ভূঁইয়া। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী কমরেড কেয়া দে ও অসম রাজ্য সম্পাদিকা অধ্যাপক বর্ণালী শর্মা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের অসম রাজ্য কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক চন্দ্রলেখা দাস বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মদ ও মাদকদ্রব্যের প্রসার এবং অনলাইনে অপসংস্কৃতি ও পর্নোগ্রাফির ব্যাপক প্রচার ছাত্র-যুবসমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর ফলে নারীদের উপর সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর বক্তব্য, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের আমলে নারী নির্যাতন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিলকিস বানু ধর্ষণ মামলার দোষীদের সংবর্ধনা এবং অঙ্কিতা ভাণ্ডারি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো পরিষেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধ্যাপক দাসের মতে, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, পুঁজিপতি শ্রেণির শোষণ এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। তিনি অসমের সর্বত্র নারীসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে অমানবিক উচ্ছেদ বন্ধ, নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম নির্বিচারে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে তিনটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে রবিবার গোয়ালপাড়া ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেক্ষাগৃহে প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।



