মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জুলাই : করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি থানার মাত্র ১০০ মিটারের ব্যাসার্ধের মধ্যে টানা চার দিনে পাঁচটি চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। থানার এত কাছাকাছি এলাকায় একের পর এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও চোরের দল কার্যত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাথারকান্দি থানার সামনেই দিবাকর ভট্টাচার্যের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। রাত প্রায় ১১টার দিকে দরজা ভাঙার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা জেগে উঠলে চোরেরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করে রেখে যায়।
একই রাতে থানা সংলগ্ন পাথারকান্দি উপ-ডাকঘরের জানালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র এলোমেলো করে দেয় দুষ্কৃতীরা। পাশাপাশি পরম রবিদাসের বাড়িতে হানা দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং মূল্যবান বাসনপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরদিনও চুরির ঘটনা অব্যাহত থাকে। ডাকবাংলোর পাশের অজিত দেবনাথের বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়া অলকেশ সিনহার বাসা থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়। একই এলাকায় পূর্ত বিভাগের কোয়ার্টারে বসবাসকারী প্রীতম রায়ের ঘরের দরজা ভেঙেও নগদ অর্থ ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় চোরের দল।
পরপর কয়েকদিনে একই এলাকায় পাঁচটি চুরির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পর পাথারকান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় কমে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাত নামলেই এখন চুরির আতঙ্কে অনেকেই জেগে থাকছেন। কেউ নিজের বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন, আবার কেউ মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখছেন। তবে তাতেও উদ্বেগ কাটছে না। তাঁদের প্রশ্ন, থানার এত কাছাকাছি এলাকায় যদি ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটে, তাহলে দূরের এলাকার নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি রাতের পুলিশ টহল বাড়ানো, সন্দেহভাজনদের ওপর কড়া নজরদারি এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরির ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।



