বরাক তরঙ্গ, ২১ মে : আন্তর্জাতিক চা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ক্লাব এবং টি বোর্ড ইন্ডিয়ার আঞ্চলিক দফতরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক অরুণ জ্যোতি নাথ।
প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন ডিন অ্যাকাডেমিক্স অধ্যাপক চিররঞ্জন ভট্টাচার্য, আইকিউএসি’র ডিরেক্টর অধ্যাপক অলক ত্রিপাঠী, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অ্যান্ড প্লেসমেন্ট সেলের ডিরেক্টর অধ্যাপক দেবমাল্য ঘোষ প্রমুখ। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে আরও দৃঢ় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। টি বোর্ড ইন্ডিয়ার সহকারী চা উন্নয়ন আধিকারিক অরূপজ্যোতি দাস কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি উন্নয়ন আধিকারিক ড. কে থাঙ্গাপান্ডিয়ান অঞ্চলভিত্তিক মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী টেকসই চা চাষ পদ্ধতি নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ চা শিল্পকে আরও লাভজনক ও আধুনিক ব্যবসায়িক খাতে রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রচলিত উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে চা পর্যটনের মতো নতুন সম্ভাবনার দিকেও নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা। পশ্চিম জালিঙ্গা টি এস্টেটের জেনারেল ম্যানেজার রাজীব গুপ্তা জৈব চা উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। তিনি দেখান কীভাবে আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। পরে অরূপজ্যোতি দাস বিশেষ প্রযুক্তিগত অধিবেশনে টি বোর্ডের নতুন উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় দুই ক্ষুদ্র চা চাষীকে সম্মান জানানো হয়। শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন ড. অদিতি নাথ।



