১৬ জুন : শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে চাপে ফেলে দিয়েছিল মিশর। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রোমেলু লুকাকুর মাঠে নামার পর ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে জয় থেকে বঞ্চিত হয় মোহাম্মদ সালাহর দল। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলে ড্র করেছে।
কাগজে-কলমে বেলজিয়ামকে ফেভারিট ধরা হলেও মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় মিশর এবং ইউরোপের শক্তিশালী দলটিকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানায়। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে প্রথমার্ধে তুলনামূলক বেশি কার্যকর ছিল উত্তর আফ্রিকার প্রতিনিধিরাই।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। দুর্দান্ত এক ফিনিশে বেলজিয়ামের জালে বল জড়িয়ে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করে সালাহরা। অন্যদিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম।
বিরতির পর কোচের কৌশলগত পরিবর্তনই ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামানো হয়, আর তার উপস্থিতিতেই বদলে যেতে শুরু করে বেলজিয়ামের আক্রমণের ধার।
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আসে সমতার গোল। থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে লুকাকু বল স্পর্শ করতে না পারলেও তার চাপ সামলাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। আত্মঘাতী ওই গোলেই ১-১ সমতায় ফিরে আসে বেলজিয়াম।
গোলের পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শোবেইর। অন্যদিকে সালাহর পরিবর্তে মাঠে নামা বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড Hamza Abdelkarim মিশরের আক্রমণে নতুন গতি আনেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বেলজিয়াম ও মিশরকে। আত্মঘাতী গোলের হতাশা নিয়েই ম্যাচ শেষ করে মিশর, আর হার এড়িয়ে স্বস্তির ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বেলজিয়ামকে।



