১৫ জুলাই : ফ্রান্সের এই দলকে অনেকেই মনে করছিলেন সর্বজয়ী। ছন্দ, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতায় ভরপুর এক দল। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে এই দলকেই বেছে নিয়েছিলেন অনেকেই। এমনকি সুপার কম্পিউটারের হিসাবেও অন্যদের চেয়ে সম্ভাব্যতায় প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে ছিল দলটি। কিন্তু সব হিসাব পাল্টে গেল সেমিফাইনালে এসে। থামতে হলো দে লা ফুয়েন্তের অসাধারণ শৈল্পিক ফুটবলের বিপরীতে।
ডলাস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ফ্রান্সকে পাত্তাই দেয়নি স্পেন। দুই অর্ধের দুই গোলে তারা গতবারের ফাইনালিস্টদের উড়িয়ে দিয়েছে ২-০ গোলে।
টুর্নামেন্টের ‘অপ্রয়োজনীয়’ তৃতীয় স্থান নির্ধরণী ম্যাচ বাদ দিলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটাই দিদিয়ের দেশ্যমের শেষ ম্যাচ। ১৪ বছরে তার সাফল্য কম নয়। একটি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনাল ও একটি সেমিফাইনালে তুলেছেন দলকে। ইউরোতেও ফ্রান্সকে একবার ফাইনাল ও একবার সেমিফাইনালে নিয়েছেন।
১৪ বছরে পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টের মধ্যে চারটিতেই শেষ চারে ওঠা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তবে তিনি যেমন অসাধারণ প্রতিভাবান সব ফুটবলার পেয়েছেন তাদের বিপরীতে এই অর্জন অনেকে মনে করেন নুন্যতম। শিরোপা মাত্র একটি।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশ্যমকে। বিশেষ করে অসাধারণ আক্রমণভাগ নিয়েও খেলোয়াড়দের পুরোপুরি স্বাধীনভাবে খেলতে না দেওয়ার অভিযোগ তার প্রতি পুরোনো। শেষ দিকে সেই ধারা থেকে বের হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল বটে, বিশেষ করে চলতি আসরে। তবে তার সবকিছুতেই যবনিকা টেনে দিল দুর্দান্ত গোছালো ফুটবল খেলা স্পেন।
এদিন অবশ্য রেফারির দিকে আঙুল তুলেছেন দেশ্যম। ‘আমি একটা প্রশ্ন করব, তবে তার উত্তর দেব না। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার জন্য এই রেফারি কি প্রয়োজনীয় মানের ছিলেন? শুধু আজ আমরা হেরেছি বলেই এটা বলছি না। ম্যাচে এমন অনেক পরিস্থিতি ছিল। অবশ্য কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষেও গেছে।’
প্রথমার্ধে লুকাস দিনিয়ে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করলে স্পেনকে পেনাল্টি দেন এল সালভাদরের এই রেফারি। সফল স্পটকিকে দলকে এগিয়ে নেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স ঘুরে দাঁড়াবে কি, উল্টো পেদ্রো পেরোর গোলে তারা আরও পিছিয়ে পড়ে। শেষ দিকে দল প্রাণপণ লড়াই করেও ভাঙতে পারেনি স্পেনের জমাট রক্ষণ। দেশ্যমের কণ্ঠে তাই ঝরেছে হতাশাও।
‘অবশ্যই হতাশা অনেক। আমাদের খেলোয়াড়েরা ভেঙে পড়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়। তবে বাস্তবতাও মেনে নিতে হবে। আজ কৌশলগত দিক থেকে আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। স্পেন ম্যাচটি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে।’
ব্যর্থতার দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা দেশ্যম বলেন, ‘সবার আগে এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। আমি এর জন্য অন্য কাউকে দোষ দিতে চাই না।’



