মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ এপ্রিল : পুলিশের চোখে ফাঁকি দিতে অনলাইন সামগ্রী বোঝাই লরি দিয়ে কফ সিরাপ পাচার করতে চাইলে ব্যর্থ হল চক্র। অসম-ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী চুরাইবাড়ি এলাকায় ধরা পড়ল। শনিবার গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাজারিছড়া থানাধীন চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের পুলিশ অভিযান চালিয়ে অনলাইন সামগ্রী বোঝাই লরি থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন সামগ্রীর আড়ালে কোটি টাকার নেশার কারবার! বাজারিছড়ার চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে ৩৬০০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার সহ আটক করা হয়ছে দুই পাচারকারীকে।শ্রীভূমি জেলার অসম-ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী বাজারিছড়া থানা অধীন চুরাইবাড়ি এলাকায় ফের বড়সড় নেশা পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। অনলাইন সামগ্রী বোঝাই লরির আড়ালে গোপনে পাচার করা হচ্ছিল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় কফ সিরাপ। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। একই সঙ্গে এই পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লরির চালক ও সহচালক—দু’জনকেই আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে গুয়াহাটি থেকে আগরতলাগামী একটি ছয় চাকার অনলাইন সামগ্রী বোঝাই লরি চুরাইবাড়ি পয়েন্টে পৌঁছায়। বাহ্যিকভাবে এটি ছিল সাধারণ অনলাইন ডেলিভারির মালবাহী গাড়ি। কিন্তু গোপন সূত্রে আগে থেকেই পুলিশের কাছে পাচারের সম্ভাব্য তথ্য ছিল।সূত্রের ভিত্তিতে চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের ইনচার্জ নিরঞ্জন দাস দলবল নিয়ে লরিটিতে বিস্তারিত তল্লাশি চালান। প্রথমে গাড়িতে থাকা বিভিন্ন খুচরো সামগ্রী দেখে সবকিছু স্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সন্দেহের ভিত্তিতে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।পুলিশ দেখতে পায়, বিভিন্ন অনলাইন সামগ্রীর আড়ালে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বড় দু’টি কাঠের বাক্স। বাক্স দু’টি খুলতেই বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় এস্কাফ কফ সিরাপ। মোট ৩৬০০ বোতল কফ সিরাপ উদ্ধার হয়, যা বাজারে পাচার হলে যুব সমাজের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারত। এই ঘটনায় লরির চালক ও সহচালককে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। ধৃতদের নাম যথাক্রমে মফিজুল ইসলাম এবং সুনতি আলি। তাদের বাড়ি অসমের হাজো ও নগাঁও এলাকায় বলে জানা গেছে।



