বরাক তরঙ্গ, ২২ মে : অসম বিধানসভাৰ অধিবেশনের শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে সরব হয়ে ওঠে বিরোধী দল। বিশেষ করে কংগ্রেস বিধায়কদের পাশাপাশি বিধায়ক অখিল গগৈ সদনের ভেতরে মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিধানসভায় রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের ভাষণের মাঝেই বিরোধীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
রাজ্যের বর্তমান সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য রাখার দাবি জানান অখিল গগৈ-সহ বিরোধী বিধায়করা। রাজ্যপালের ভাষণ চলাকালীনই কংগ্রেসের বিধায়করা ওয়াকআউট করেন। পরে বিধানসভা চত্বরে বেরিয়ে এসে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কংগ্রেস বিধায়করা বিভিন্ন স্লোগান দেন। “বাজারে লেগেছে আগুন, সরকার ঘুমে মগ্ন”, “মূল্যবৃদ্ধি কমাও”, “বিজেপি সরকার হায় হায়” প্রভৃতি স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ বিধায়ক ওয়াজেদ আলি চৌধুরী বলেন, “রাজ্যের সবচেয়ে জ্বলন্ত সমস্যা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যপালের ভাষণে একটি শব্দও উচ্চারিত হয়নি। সেই কারণেই কংগ্রেস বিধায়ক দল সদন ত্যাগ করেছে। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে রাজ্য সরকার শুধু নাটক করছে।”
বিধায়ক জাকির হোসেন সিকদার বলেন, “কংগ্রেস সর্বদাই সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। আমরা মানুষের সমস্যার সমাধানে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করব। বর্তমানে রাজ্যে সমস্ত পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, অথচ সরকারের কোনও হেলদোল নেই। মূল্যবৃদ্ধি রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য—কোনও সরকারই কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিধায়ক রেকিব উদ্দিন আহমদ বলেন, “অধ্যক্ষ যেন সবসময় হেঁটেই চলাফেরা করেন। মুখ্যমন্ত্রীরাও রিকশায় চলুন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বড় বিমানে বিদেশ সফর না করে হেঁটে যান। অতিরিক্ত নাটক করে কোনও লাভ নেই।
অন্যদিকে বিধায়ক ডাঃ জয়প্রকাশ দাস বলেন, “একদিকে মানুষকে তেল কম ব্যবহার করতে এবং গাড়ি কম চালাতে বলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে ব্যস্ত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সরকার এখনও ঘুমিয়ে রয়েছে।”



