উত্তাল শ্রীভূমি : কংগ্রেসের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, আটক একাধিক

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুলাই :
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিশুদ্ধ পানীয়জলের সঙ্কট, শহরের ভাঙাচোরা সড়ক, সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থা এবং বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক সমস্যার সমাধানের দাবিতে শনিবার ‘করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসে’র ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলা সদর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ চলাকালীন কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেসের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ অযথা বলপ্রয়োগ করে এবং একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকাল থেকেই জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ‘ইন্দিরা ভবন’-এর সামনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী, মহিলা কংগ্রেস সদস্য, যুব কর্মী ও সমর্থক জড়ো হন। দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে পৌঁছায়। সেখানে চক্র আধিকারিকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের পানীয়জলের সঙ্কট, শহরের বেহাল সড়ক, সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট অকেজো হয়ে পড়ে থাকা, আইসিইউ পরিষেবার সীমাবদ্ধতা এবং জনস্বাস্থ্য-সহ একাধিক নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের বচসা শুরু হয়, যা পরে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।

কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে জোরপূর্বক আটক করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আটক নেতা-কর্মীদের সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হলে থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস সমর্থক থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। কিছু সময় উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমি জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমেদ চৌধুরী (স্বাপন), জেলা পরিষদ সদস্য মমতাজ বেগম, কংগ্রেস নেতা কবির আহমেদ, মহিলা নেত্রী হাসিনা রহমান চৌধুরী, পঙ্কজ নাগ, কংগ্রেস সেবা দলের সভাপতি সন্দীপ নন্দী, ভিকি কুরি-সহ জেলার বিভিন্ন স্তরের বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থক।

ঘটনার পর শাহাদাত আহমদ চৌধুরী (স্বাপন) অভিযোগ করেন, “জনস্বার্থের দাবিতে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা হয়েছে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন ভবিষ্যতেও চলবে।”

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে কংগ্রেসের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট নয়।
শনিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীভূমির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেলার নাগরিক সমস্যা ও প্রশাসনিক ইস্যুকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *