তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন: লক্ষীপুরের তৎকালীন এসডিও (সিভিল)-কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

Spread the news

কেএ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুলাই :
তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইন, ২০০৫ লঙ্ঘনের অভিযোগে কাছাড় জেলার লক্ষীপুরের তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল অফিসার (সিভিল), বর্তমানে সমজেলা আয়ুক্তের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে অসম রাজ্য তথ্য আয়োগ। রাজ্য তথ্য আয়ুক্ত উৎপল বরুয়া ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক আদেশে এই জরিমানা ধার্য করেন।

আয়োগের নির্দেশে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে দীর্ঘ দুই বছরেও চাওয়া তথ্য সরবরাহ না করা, তথ্য কমিশনের নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং ধার্য শুনানিতে উপস্থিত না থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন করেছেন। ফলে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৫-এর ২০(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্দেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ জমা না দিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, লক্ষীপুর বিধানসভা এলাকার পয়লাপুলের ব্যবসায়ী রাকেশ সিং ৩০ জুলাই ২০২৪ সালে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় লক্ষীপুর মহকুমা কার্যালয় এবং মহকুমা কার্যালয়ের অধীন খাদ্য ও অসামরিক সরবরাহ বিভাগ সংক্রান্ত কয়েকটি তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও তথ্য না পাওয়ায় তিনি প্রথমে জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে আপিল করেন। সেখান থেকেও সন্তোষজনক সাড়া না মেলায় তিনি অসম রাজ্য তথ্য আয়োগের দ্বারস্থ হন।

রাকেশ সিংয়ের আবেদনের ভিত্তিতে তথ্য আয়োগ শুনানি শুরু করে। গত ২৩ এপ্রিল এবং ৮ জুন পরপর দু’টি শুনানির দিন নির্ধারণ করা হলেও লক্ষীপুরের সমজেলা আয়ুক্ত কোনও শুনানিতেই উপস্থিত হননি। এমনকি কারণ দর্শানোর নোটিশেরও কোনও জবাব দেননি বা কমিশনের কাছে কোনও লিখিত ব্যাখ্যাও জমা করেননি।

এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে তথ্য প্রদান না করা, তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন এবং তথ্য আয়োগের নির্দেশ ও নোটিশের প্রতি অবহেলা প্রদর্শনের অভিযোগে কমিশন ২০(১) ধারায় জরিমানা আরোপ করে। ৫৭৫৪১৯/(সিসিআর)/৪০/২০২৪/১৯ নম্বর মেমোতে ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই আদেশ জারি করা হয়। যদিও রাকেশ সিংয়ের দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ জমা না হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, আবেদনকারীর চাওয়া তথ্য দীর্ঘদিন ধরে কেন সরবরাহ করা হয়নি, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সচেতন মহলে নানা জল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *