বরাক তরঙ্গ, ৮ জুলাই : অসম বিধানসভার সরকারি কাজকর্মকে আরও গতিশীল করে তোলার জন্য সহযোগী ভাষার যে তালিকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে তাতে বাংলাকে কেন ব্রাত্য রাখা হল সে প্রশ্ন তুলল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাজ্যের বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে সুবিবেচনা আবশ্যক ছিল বলে অভিমত ব্যক্ত করে সম্মেলন বাংলাকে অসমিয়া, ইংরেজি ,বডো ও হিন্দির পাশাপাশি সহযোগী সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের জন্য বিধানসভার অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের বিধায়কদের কাছে দাবি রেখেছে।
সম্মেলনের মুখপাত্র গৌতমপ্রসাদ দত্ত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করে বলেছেন, বাংলা ভাষাকে বিধানসভায় এবং রাজ্য সরকারের কাজকর্মে সহযোগী সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের দাবি দীর্ঘদিনের। এ রাজ্যের বাঙালি জনগোষ্ঠী সুদীর্ঘ কাল থেকে অসমিয়া, বডো ও অন্যান্যদের পাশাপাশি অসমের সার্বিক বিকাশ, ভাষিক সমন্বয় এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সদর্থক ভূমিকায় রয়েছে। সর্বশেষ লোকগণনায় বাঙালি জনগোষ্ঠী রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশ হওয়ার সুবাদে দ্বিতীয় বৃহত্তম জনশ্রেণি। গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোয় জনবিন্যাসের এই চরিত্র এবং জনগোষ্ঠীর অবস্হানের ভিত্তিতে তার ন্যায়সঙ্গত দাবি উপেক্ষা করা উচিত হবে না।
২০২৪ সালে কেন্দ্র সরকার অসমিয়া সঙ্গে বাংলাকেও ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেবার পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আহবানে রাজ্যজুড়ে যে ভাষা গৌরব সপ্তাহ উদযাপন করা হয় তাতে দুই উপত্যকায় বাঙালি জনগোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এই জাতীয় স্বীকৃতির আধারেও এ রাজ্যে বাংলাকে সহযোগী সরকারি ভাষার কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে বলে মুখপাত্র দত্ত বলেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রাজ্যের পরিবর্তন যাত্রায় দুই উপত্যকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর মনোভাব খুবই স্পষ্ট। তাই সরকার বিধানসভায় বাংলাকে সহযোগী ভাষা করার দাবিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করবেন স্বাভাবিকভাবেই এ প্রত্যাশা রয়েছে। বিষয়গুলো সম্পর্কে বরাক উপত্যকার বিধায়কদের মুখ্যমন্ত্রী ও বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করার জন্য সম্মেলন তাদের কাছে আর্জি জানাচ্ছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মুখপাত্র গৌতম প্রসাদ দত্ত বিবৃতিতে বলেছেন ,বিভিন্ন মতের অনুরাগী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এক কেন্দ্রীয় মঞ্চ হিসাবে সন্মেলন গত পাঁচ দশক ধরে অখণ্ড বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয় তুলে ধরে বহুমাত্রিক ধারায় কাজ করে যাচ্ছে। রাজ্যের বাঙালির আত্মপরিচয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলার পাশাপাশি অসমীয়া সহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে শ্রদ্ধাশীল মনোভাব নিয়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বৌদ্ধিক স্তরে কাজ করছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের শুভকাঙ্খী ও পৃষ্ঠপোষকদের শুভেচ্ছা ও সহযোগিতাতেই সন্মেলন বিস্তৃত পরিসরে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।



