২৮ জুলাই : নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কাদুনা রাজ্যের কৌরু স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকার নরিডন গ্রামে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত এই নৃশংস হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও প্রবীণরাও রয়েছেন। এছাড়া কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল সশস্ত্র হামলাকারী অতর্কিতে গ্রামে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক বাসিন্দা পালানোর সুযোগ না পেয়ে আগুনে পুড়ে মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়েও হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজন শিশু রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলার পর গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, হামলার খবর দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে। ফলে হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কোন জঙ্গি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র দস্যু গোষ্ঠীগুলোর হামলা, অপহরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের তৎপরতা দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কাদুনা স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।



