মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২ অক্টোবর : সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যাতে বারবার বিভিন্ন দফতরের দরজায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই পাথারকান্দিতে আয়োজিত হল বিশেষ ‘সেবা সেতু’ শিবির। শ্রীভূমি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং পাথারকান্দি সমজেলা আয়ুক্ত ও খণ্ড উন্নয়ন আধিকারিকের যৌথ ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার পাথারকান্দি বিডিও কার্যালয় চত্বরে দিনভর চলে এই পরিষেবা শিবির। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিভিন্ন পরিষেবার জন্য প্রায় ১২০০ জন হিতাধিকারী অনলাইনে আবেদন করেন।
মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনকে সামনে রেখে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অধীনে আয়োজিত এই শিবিরে অরুণোদয় প্রকল্প, জবকার্ড, রেশন কার্ড, বৃদ্ধভাতা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জমি সংক্রান্ত পরিষেবা এবং বিবাহ নিবন্ধনের মতো বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আবেদন গ্রহণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা পৃথক কাউন্টারে আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাই ও অনলাইন আবেদনে সহযোগিতা করেন।
সকালে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শিবিরের সূচনা হয়। বিডিও অজয় কার্কী ছেত্রীর তত্ত্বাবধানে দিনভর চলে কর্মসূচি। সকাল থেকেই ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পরিষেবা নিতে ভিড় জমান।
পড়ন্ত বিকেলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিবির পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। সঙ্গে ছিলেন পাথারকান্দি সমজেলা আয়ুক্ত ত্রিবিদ রায়। তাঁরা বিভিন্ন পরিষেবা কাউন্টার ঘুরে দেখার পাশাপাশি আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিষেবা পেতে কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে কি না, তা জানতে চান।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জবকার্ডের জন্য ২৩৯ জন, অরুণোদয়ের জন্য ২৩০ জন, রেশন কার্ডের জন্য ১২৫ জন, বৃদ্ধভাতার জন্য ৫০ জন, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য ২৫০ জন এবং প্রধানমন্ত্রী কৃষি যোজনায় ৬০ জন আবেদন করেছেন। অন্যান্য পরিষেবা মিলিয়ে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১২০০।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সভানেত্রী রীনা সিনহা, সদস্যা জবারানি নাগ, উপ-সভাপতি মানিক চন্দ্র দেবনাথ-সহ ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মীরা। প্রশাসনের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



