২ অক্টোবর : হকির ইতিহাসে আবার ভারতের সোনার মেয়েরা। ৪৪ বছর বাদে এশিয়ান গেমসের হকির ফাইনালে শুক্রবার তীব্র লড়াই শেষে ভারত ১-০ গোলে চিনকে হারিয়ে সোনার পদক তুলে নিল। ভারতের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন লালরেমসিয়ামির। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমসে প্রথম মেয়েদের হকিতে সোনা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ভারত। তারপর ভারত আর সোনার মুখ দেখেনি। চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে আসন্ন লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্সে সরাসরি খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গেল। এদিন খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে তিনটেয়। কিন্তু ট্র্যাফিক জ্যামে দুই দলের বাস অনেকক্ষণ আটকিয়ে ছিল। যার ফলে স্টেডিয়ামে পৌঁছতে তাদের অনেক দেরি হয়ে যায়। খেলা শুরু হয় বিকেল সাড়ে চারটে থেকে। এদিন ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে লালরেমসিয়ামিকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নামলেন মাঠে। আর সেই ম্যাচ আরও স্মরণীয় হয়ে উঠল লালরেমসিয়ামির গোলে। তাঁর একমাত্র গোলে ভারত সোনার পদক জিতে ইতিহাস রচনা করল।
গত অলিম্পিক্স গেমসে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা বেশ শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার প্রবেশ করতে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলের জালে জড়িয়ে যায়। তিন মিনিট পর পেনাল্টি কর্নার পেয়েছিল ভারত, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।
দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে আক্রমণের দাপট আরও বাড়িয়ে দেয় চিন। গোল লাইন সেভ করেন নবনীত কৌর। কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি স্ট্রোক পায় চিন। বক্সের মধ্যে ফাউল করা হয়েছিল চিনের এক খেলোয়াড়কে। তবে ভারতের গোলকিপার সবিতা পুনিয়া অসাধারণ দক্ষতায় সেই পেনাল্টি স্ট্রোক বাঁচিয়ে দেন। চিনের ঝাং ইংয়ের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন সবিতা।
তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই আবার পেনাল্টি স্ট্রোক পেয়েছিল চিন। বল নবনীতের পায়ে লেগেছিল। কিন্তু রেফারালের পর সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। পেনাল্টি কর্নার থেকে চিনের প্রয়াস রুখে দেন সালিমা টেটে। খেলা যত গড়াতে থাকে, চিনের দাপট ততই দেখতে পাওয়া যায়। ম্যাচ পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছিল চিন। কিছুতেই ভারত আক্রমণে সেইভাবে দানা বাঁধতে পারছিল না। কোনও মতে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করে সময় অতিবাহিত করছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে বেশিক্ষণ রক্ষণাত্মক খেলে ম্যাচ জেতা যায় না। কিন্তু ভারতের রক্ষণ এতটাই জমাট ছিল যে চিন কিছুতেই সেই ব্যারিকেড ভাঙতে পারছিল না।
শেষের দিকে চিন গোলকিপারকে তুলে নিয়ে ফিল্ড খেলোয়াড় নামিয়ে দেয়। একটানা আক্রমণ করেও লাভ হয়নি। খেলা শেষ হতেই ভারতের মেয়েরা আনন্দে মেতে ওঠেন। সবাই সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে জয়ের উল্লাসে সারা মাঠ ছুটতে থাকেন। কোচ শোয়ার্ড মারিন সেই আনন্দের জোয়ারে মেতে উঠেছিলেন। সারা মাঠ জুড়ে উৎসবে খেলোয়াড়রা হারিয়ে যান।



