বরাক তরঙ্গ, ১৬ সেপ্টেম্বর : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে প্রয়াত বিশিষ্ট নৃবিজ্ঞানী ড. অমিতাভ দাসগুপ্তের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তৃতীয় ড. অমিতাভ দাসগুপ্ত স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই স্মারক বক্তৃতাটি গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর দ্বিতীয় আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত ড. দাসগুপ্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। নৃবিজ্ঞান বিভাগের সপ্তম সেমেস্টারের ছাত্রী গৌতমী মালাকার সরস্বতী বন্দনা পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জ্যোতি হাজরিকা। তিনি নৃবিজ্ঞান বিভাগের ইতিহাস এবং দক্ষিণ অসমে বিষয়টির বিকাশ ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় তাঁর বক্তব্যে স্মারক বক্তৃতাটি প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে আয়োজনের জন্য বিভাগকে উৎসাহিত করেন।
ড. অমিতাভ দাসগুপ্তের কন্যা সুপ্রদীপ্তা দে আবেগঘন বক্তব্যে তাঁর পিতার স্মৃতিচারণ করেন এবং এই উদ্যোগের জন্য নৃবিজ্ঞান বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। প্রয়াত অধ্যাপকের প্রত্যক্ষ ছাত্র ও বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক অশোক কুমার গুপ্ত রায়ও তাঁর সঙ্গে ছাত্র ও সহকর্মী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ড. দাসগুপ্ত নৃবিজ্ঞানকে একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত শাস্ত্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
অনুষ্ঠানে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিফু ক্যাম্পাসের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নরেন্দ্র সিং উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। বরাক উপত্যকায় নৃবিজ্ঞান চর্চার বিস্তারের সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। স্মারক বক্তৃতার মূল পর্বে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গুলরুখ বেগম। ড. বামনকিরি রংপি তাঁর পরিচয় তুলে ধরেন। অধ্যাপক বেগম “Nutritional Adaptation: Adapting to Survive and Thrive” শীর্ষক বক্তৃতায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশগত, শারীরবৃত্তীয় ও সাংস্কৃতিক অভিযোজনের নানা দিক বিশদে আলোচনা করেন। শেষে ড. বামনকিরি রংপি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ড. জন বসুমাতারি। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



