বরাক তরঙ্গ, ৭ নভেম্বর : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে প্রায় দুই মাস ধরে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন সোনাইয়ের এক যুবক। তাঁর নিরাপদ মুক্তি এবং দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কাছাড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপারের (এসএসপি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করলেন সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর। এ ব্যাপারে শনিবার এসএসপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন তিনি। আটক যুবকের বর্তমান অবস্থান ও আইনি পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি এবং কূটনৈতিক সহায়তার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক।
আটক যুবকের নাম আজমল হোসেন লস্কর (৩০)। তিনি সোনাইয়ের দক্ষিণ মোহনপুর সপ্তম খণ্ড এলাকার বাসিন্দা। বিধায়কের দেওয়া চিঠি অনুযায়ী, পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে কর্মসংস্থানের আশায় ২০২৪ সালে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন আজমল। সেখানে পৌঁছে ‘ইওয়ান হিউম্যান রিসোর্স কোম্পানি’ নামে একটি সংস্থায় সাফাইকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেন তিনি।

কিন্তু কর্মরত অবস্থায় তাঁর মূল পাসপোর্টটি হারিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়োগকর্তাকে জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সংস্থা কিংবা স্পনসরের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনও আনুষ্ঠানিক পুলিশ রিপোর্ট দায়ের করা হয়নি বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, আরবি ভাষা এবং সৌদি আরবের আইনকানুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় হারিয়ে যাওয়া নথি পুনরুদ্ধার কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি আজমল।

বিধায়ক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া আজমলকে এক বাংলাদেশি নাগরিক ভুল পথে পরিচালিত করেন। এর জেরে অনিচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের অভিবাসন ও বসবাস সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পরবর্তী সময়ে রিয়াধের পুলিশ তাঁকে আটক করে।

আজমলের দীর্ঘদিন বিদেশে আটক থাকার ঘটনায় তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। ছেলের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও চিঠিতে জানিয়েছেন বিধায়ক। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারটির পক্ষে সৌদি আরবে আইনি প্রক্রিয়া চালানো কিংবা আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ করে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।



