নিপ্পু লস্কর, সোনাই।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ জুন : গ্রামোন্নয়নের নামে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে কাছাড় জেলার সোনাই বিধানসভা এলাকায়। সোনাই উন্নয়ন খণ্ডের অধীন স্বাধীনবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএ)-এর আওতায় কোনও কাজ সম্পন্ন না করেই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুকন আহমেদ লস্কর কাছাড় জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, ভুয়ো মাস্টাররোল, জাল স্বাক্ষর এবং মেট কোডের অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছে। শনিবার সাংবাদিক ডেকে তিনি জানান, স্বাধীন বাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন রামনগর চতুর্থ ও পঞ্চম খণ্ডে দু’টি পুকুর খনন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো নতুন কাজ হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি মৎস্য পুকুর খনন প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা এবং একটি জল সংরক্ষণমূলক পুকুর খনন প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে নতুন কোনো পুকুর খননের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীর দাবি, পুরনো পুকুরকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঘটনার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্বপ্রাপ্ত জিআরএস ফইজুল হক লস্করের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। রুকন আহমেদ লস্করের দাবি, এর আগেও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহৃত মেট কোড নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত মেটের পরিবর্তে অন্যের নামে ইস্যু করা মেট কোড ব্যবহার করে প্রকল্পের ছবি ও তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজীব হোসেন মজুমদার নামে এক ব্যক্তির ভূমিকাও তদন্তের দাবি তুলেছে স্থানীয় মহল।
অভিযোগের বিষয়ে সোনাই বিডিও দেবাশিস দেব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং শীঘ্রই প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনাই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



